হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে কি ‘ত্রিশঙ্কু’ বাংলা? ম্যাজিক ফিগার না মিললে সরকার গড়বে কে?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতিতে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন—যদি কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তবে কী হবে? ভোট পণ্ডিতদের মতে, তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে লড়াই যদি এতটাই সমানে-সমানে হয় যে কেউই ১৪৮-এর ‘ম্যাজিক ফিগার’ স্পর্শ করতে পারল না, তবে তৈরি হবে ‘ত্রিশঙ্কু বিধানসভা’ (Hung Assembly) পরিস্থিতি। এমন জটিল অবস্থায় সাংবিধানিক নিয়ম কী বলছে, দেখে নেওয়া যাক।
রাজ্যপালের ভূমিকা ও সরকার গঠনের ডাক
ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকার গঠনের চাবিকাঠি চলে যায় রাজভবনের হাতে। সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, রাজ্যপাল নিম্নলিখিত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সরকার গঠনের আহ্বান জানাতে পারেন:
- ভোট-পূর্ব জোট: নির্বাচনের আগে যদি কোনও জোট হয়ে থাকে এবং সেই জোট একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- একক বৃহত্তম দল: কোনো জোট না থাকলে রাজ্যপাল একক বৃহত্তম দলের (Single Largest Party) নেতাকে সরকার গঠনের সুযোগ দিতে পারেন।
- ভোট-পরবর্তী জোট: যদি একাধিক দল মিলে নির্বাচনের পর জোট গঠন করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি পেশ করে।
১০ দিনের ডেডলাইন ও আস্থা ভোট
সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানোর পর সংশ্লিষ্ট নেতাকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে (যা সাধারণত ১০ থেকে ১৫ দিন হতে পারে) বিধানসভার ফ্লোরে ‘আস্থা ভোট’ বা ‘Floor Test’-এর মাধ্যমে নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হয়। যদি প্রস্তাবিত সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৪৮ জন বিধায়কের সমর্থন জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়, তবে সেই মন্ত্রিসভা ভেঙে যায়।
শেষ বিকল্প: রাষ্ট্রপতির শাসন ও পুনর্নির্বাচন
যদি রাজ্যপাল দেখেন যে কোনোভাবেই কোনো দল বা জোট স্থায়ী সরকার গড়তে সক্ষম হচ্ছে না, তবে তিনি সংবিধানের ৩৫৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী রাজ্যে ‘রাষ্ট্রপতির শাসন’ (President’s Rule) জারির সুপারিশ করতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে পরবর্তী ছয় মাস পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শাসন জারি থাকতে পারে। এর মধ্যেও যদি রাজনৈতিক সমীকরণ না বদলায়, তবে চূড়ান্ত পথ হিসেবে নির্বাচন কমিশনকে ‘পুনর্নির্বাচন’ বা ‘Mid-term Poll’-এর ডাক দিতে হয়।
নির্ণায়ক হতে পারে ছোট দল ও নির্দলরা
ত্রিশঙ্কু বিধানসভার ক্ষেত্রে বাম-কংগ্রেস জোট কিংবা আইএসএফ-এর মতো ছোট দল এবং জয়ী নির্দল প্রার্থীরাই হয়ে ওঠেন ‘কিং মেকার’। তাঁদের সমর্থন কোন দিকে পাল্লা ভারী করবে, তার ওপরেই নির্ভর করে বাংলার মসনদে কে বসবেন।
আগামী ৪ মে ইভিএম খোলার পর জনতা জনার্দন কাউকেও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেয়, নাকি বাংলার ভাগ্য রাজভবনের সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে থাকে—এখন সেটাই দেখার।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।