‘আমরা ২০০-এর বেশি আসনে জিতব’, গণনার ৪৮ ঘণ্টা আগে এজেন্টদের ‘ভোকাল টনিক’ মমতার

‘আমরা ২০০-এর বেশি আসনে জিতব’, গণনার ৪৮ ঘণ্টা আগে এজেন্টদের ‘ভোকাল টনিক’ মমতার

আগামীকাল, সোমবার ৪ মে রাজ্যের ভাগ্য নির্ধারণী ভোটগণনা। তার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে, শনিবার দলের কাউন্টিং এজেন্ট এবং নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠক করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্নায়ুর চাপের এই মুহূর্তে কর্মীদের মনোবল তুঙ্গে রাখতে তিনি এক জোরালো ‘ভোকাল টনিক’ দিলেন এবং দাবি করলেন, এবারের নির্বাচনে তৃণমূল ২০০-এর বেশি আসনে জয়লাভ করবে।

আত্মবিশ্বাসের বার্তা: ‘২০০ পার করব আমরাই’

বৈঠকের শুরুতেই তৃণমূল নেত্রী বুথফেরত সমীক্ষাকে কার্যত ফুৎকারে উড়িয়ে দেন। কর্মীদের মনে ভরসা জোগাতে তিনি স্পষ্ট জানান যে, দলের নিজস্ব মূল্যায়ন এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনের ওপর ভিত্তি করেই তিনি নিশ্চিত যে ঘাসফুল শিবির এবারও ২০০-এর বেশি আসনে জয়ী হয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে। তাঁর এই আত্মবিশ্বাসী বার্তা এজেন্টদের মধ্যে নতুন উদ্যম সঞ্চার করেছে বলে তৃণমূল সূত্রে খবর।

‘মার খাওয়া’ কর্মীদের জন্য বিশেষ ঘোষণা

এদিনের বৈঠকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আবেগপূর্ণ ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট প্রচার বা নির্বাচনের দিন যে সমস্ত তৃণমূল কর্মী বিরোধীদের হাতে বা পুলিশের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন, মার খেয়েছেন, তাঁদের দলের তরফ থেকে বিশেষ পুরস্কৃত করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। দলের প্রতি তাঁদের এই আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই নেত্রীর এই ঘোষণা বলে মনে করা হচ্ছে।

এজেন্টদের জন্য কড়া ‘রুলবুক’

কেবল উৎসাহ দেওয়াই নয়, গণনার দিনের জন্য একটি কড়া নির্দেশিকাও বেঁধে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি এজেন্টদের নির্দেশ দিয়েছেন:

  • শেষ পর্যন্ত লড়াই: গণনার কাজ সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং রাউন্ড-ভিত্তিক ফলাফল হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কেউ যেন কোনো অবস্থাতেই গণনাকেন্দ্র ছেড়ে না বেরোন।
  • প্রতি মুহূর্তে রিপোর্ট: গণনাকেন্দ্রের ভেতরের পরিস্থিতি, প্রতি রাউন্ডের হিসাব এবং কোনো অস্বাভাবিকতা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে দলীয় নেতৃত্ব এবং কন্ট্রোল রুমকে জানাতে হবে।
  • প্ররোচনায় পা নয়: বিরোধীরা যতই উসকানি দিক বা উল্লাস করুক, এজেন্টদের মাথা ঠান্ডা রেখে কেবল হিসাবের দিকে নজর রাখতে হবে।

৪ মে-র মেগা লড়াইয়ের আগে তৃণমূল নেত্রীর এই ‘মাইক্রো-ম্যানেজমেন্ট’ এবং ভোকাল টনিক যে দলের কর্মীদের মনোবল কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য। এখন শুধু ইভিএম খোলার অপেক্ষা।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *