‘জিতছি আমরাই, কাউন্টিং-হলে খেলা হবে’, গণনার আগে কর্মীদের রাত জাগার নির্দেশ মমতা-অভিষেকের

‘জিতছি আমরাই, কাউন্টিং-হলে খেলা হবে’, গণনার আগে কর্মীদের রাত জাগার নির্দেশ মমতা-অভিষেকের

কলকাতা: আগামীকাল ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের মেগা ফলাফল ঘোষণা। গণনা শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে এক্সিট পোল বা বুথফেরত সমীক্ষাকে কার্যত ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূল কর্মী ও কাউন্টিং এজেন্টদের কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের নিজস্ব সমীক্ষা রিপোর্টের ভিত্তিতে তৃণমূল নেত্রীর দৃপ্ত ঘোষণা, “২০০ আসন পার করে আমরা এগিয়ে যাব।” একইসঙ্গে বিজেপি শেষ মুহূর্তে চক্রান্ত করতে পারে আশঙ্কা করে এজেন্টদের রাত জেগে মাটি কামড়ে পড়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব।

শনিবার বিকেলে তৃণমূলের প্রার্থী, কাউন্টিং এজেন্ট এবং দলীয় পদাধিকারীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এক দীর্ঘ বৈঠক করেন মমতা ও অভিষেক। গণনার দিন ইভিএম কারচুপি রুখতে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে এই বৈঠক থেকে।

এজেন্টদের জন্য কড়া ‘রুলবুক’

বৈঠকে কাউন্টিং এজেন্টদের উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, নির্বাচন কমিশনের ধীরগতিতে গণনা চালানোর একটি পরিকল্পনা থাকতে পারে। তাই চূড়ান্ত ধৈর্য ধরতে হবে। তাঁর নির্দেশাবলি:

  • সময়ানুবর্তিতা: ভোর ৫টা থেকে ৫:৩০-এর মধ্যে আবশ্যিকভাবে এজেন্টদের গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে যেতে হবে।
  • বাইরের খাবারে না: সতর্কতার কারণে বাইরের কারও দেওয়া জল বা খাবার গ্রহণ করা যাবে না। শৌচাগারে যাওয়ার প্রয়োজন হলে দলের অন্য কাউকে দায়িত্ব দিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে টেবিলে ফিরতে হবে।
  • শেষ রাউন্ড পর্যন্ত অপেক্ষা: শেষ রাউন্ডের গণনা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কেউ কেন্দ্র ছাড়বেন না। মমতা জানান, “রাত দুটো বাজলেও ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করবেন। আমাদের জয় হবেই।”

ইভিএম নজরদারি ও ভিভিপ্যাট গোনার দাবি

স্ট্রংরুম থেকে গণনাকেন্দ্রে ইভিএম নিয়ে যাওয়ার সময় বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল নেত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “১০ সেকেন্ডের জন্য লোডশেডিং হলে ওরা ৫০টা মেশিন পাল্টে দিতে পারে।” ডেটা এন্ট্রি অপারেটর কম্পিউটারে তথ্য নথিভুক্ত করার সময় যাতে কোনও ফারাক না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইভিএমের ব্যাটারি নিয়ে এক বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, যদি দেখা যায় কোনো ইভিএমের ব্যাটারিতে ৭০ শতাংশের বেশি চার্জ রয়েছে, তবে ধরতে হবে মেশিনটি নতুন। এমন সন্দেহজনক ক্ষেত্রে অবিলম্বে ভিভিপ্যাট (VVPAT) গণনার দাবি জানাতে হবে। মমতা আরও যোগ করেন, কোনো বুথে যদি বিজেপিকে ৩০০ বা ৫০০ ভোটে এগিয়ে থাকতে দেখা যায়, সেখানেও সঙ্গে সঙ্গে পুনর্গণনার দাবি তুলতে হবে।

বাইরে জমায়েত ও নজরদারি

গণনাকেন্দ্রের ভেতরে এজেন্টদের পাশাপাশি বাইরেও কড়া পাহারার ব্যবস্থা করছে তৃণমূল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রতিটি গণনাকেন্দ্রের বাইরে ছাত্র, যুব, মহিলা এবং শ্রমিক শাখা মিলিয়ে অন্তত চার-পাঁচ হাজার কর্মী জমায়েত থাকবেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী বা পুলিশ যদি এজেন্টদের বসতে বাধা দেয় বা অত্যাচার করে, তা সঙ্গে সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বকে জানাতে হবে।

ওয়ার রুম ও পুরস্কারের ঘোষণা

সোমবারের গোটা গণনা প্রক্রিয়া কালীঘাট এবং ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে সরাসরি মনিটরিং করা হবে। জেলায় জেলায় তৈরি হয়েছে বিশেষ ‘ওয়ার রুম’। প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমারকে দমদম-ব্যারাকপুর অঞ্চলে বিশেষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকের শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, নির্বাচনের সময় তৃণমূল কর্মী এবং সাধারণ মানুষের ওপর যাঁরা অত্যাচার করেছে, ফল ঘোষণার পর আইনি পথে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, যে সমস্ত কর্মীরা মার খেয়েও মাটি কামড়ে পড়ে লড়াই করেছেন, দল তাঁদের পুরস্কৃত করবে।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *