ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে বিধিভঙ্গের অভিযোগ! রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে কমিশনে তৃণমূল

কলকাতা: ৪ মে মহাগণনার ঠিক আগে উত্তর কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালট বাছাই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হলো নতুন বিতর্ক। ওই কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলো তৃণমূল কংগ্রেস। শাসকদলের দাবি, নিয়ম বহির্ভূতভাবে পোস্টাল ব্যালট নাড়াচাড়া করা হয়েছে, যা গণনার স্বচ্ছতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে অনিয়মের নালিশ
তৃণমূলের অভিযোগ, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে থাকা রিটার্নিং অফিসার নিয়ম ভেঙে পোস্টাল ব্যালট বাছাই বা সর্টিং করেছেন। দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, শনিবার ভোরে বেশ কয়েকটি ট্রাঙ্কে করে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে আসা হয় এবং কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধির উপস্থিতি ছাড়াই সেগুলিকে নির্দিষ্ট করা হচ্ছিল। এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকার পরিপন্থী বলে দাবি করেছে ঘাসফুল শিবির।
সিসিটিভিহীন ঘরে ব্যালট বাছাই?
অভিযোগের গুরুত্ব বাড়িয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, পোস্টাল ব্যালটের ট্রাঙ্কগুলিকে এমন একটি ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে যেখানে কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। তৃণমূলের বক্তব্য, “আমরা বারবার দাবি করেছি যে ইভিএম এবং পোস্টাল ব্যালট যেখানে থাকবে, তার প্রতিটি মিলিমিটার সিসিটিভি নজরদারিতে থাকতে হবে। কিন্তু কেন সিসিটিভিহীন ঘরে ব্যালট নিয়ে যাওয়া হলো, তার কোনও সদুত্তর নেই।” এই বিষয়টি নিয়েই মূলত কমিশনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে।
আগেও ছিল ‘সন্দেহজনক’ গতিবিধির অভিযোগ
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা এবং ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে সরব তৃণমূল। এর আগে শশী পাঁজা ও কুণাল ঘোষের মতো নেতারা সেখানে গিয়ে ‘সন্দেহজনক গতিবিধি’র অভিযোগ তুলে ধর্নায় বসেছিলেন। গভীর রাতে কেন স্ট্রংরুমের দরজা খোলা হয়েছিল বা কেন সিসিটিভি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল—এসব নিয়ে আগেই উত্তাল হয়েছিল এলাকা। এবার রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে সরাসরি বিধিভঙ্গের নালিশ সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল।
কমিশনের হস্তক্ষেপের দাবি
তৃণমূলের পক্ষ থেকে কমিশনে জমা দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, গণনার আগে এই ধরণের ঘটনা জনমানসে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। অবিলম্বে ওই রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা খতিয়ে দেখা এবং গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তারা। অন্যদিকে, বিরোধীদের দাবি পরাজয় নিশ্চিত জেনেই শাসকদল এখন নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর কালি ছেটানোর চেষ্টা করছে। গণনার মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে এই নালিশ ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে চূড়ান্ত উত্তেজনা।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।