গণনায় কারচুপি রুখতে তৃণমূলের ‘মাস্টারস্ট্রোক’, এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ অভিষেক

নির্বাচনী লড়াইয়ের উত্তেজনা ছাপিয়ে এবার আলোচনার কেন্দ্রে ৪ মে-র ভোটগণনা। শেষ মুহূর্তের কারচুপি রুখতে এবং প্রতিটি ভোট গণনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন রণকৌশল সাজিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকের পর জেলাভিত্তিক ‘কাউন্টিং অবজার্ভার’ নিয়োগ করে কোমর বেঁধে মাঠে নামছে শাসক শিবির।
রাজীব কুমার ও হেভিওয়েটদের ওপর গুরুদায়িত্ব
তৃণমূলের এবারের কৌশলে সবচেয়ে বড় চমক প্রাক্তন রাজ্য পুলিশ প্রধান রাজীব কুমারের অন্তর্ভুক্তি। দমদম ও ব্যারাকপুরের মতো রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকার তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে। এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনার দায়িত্ব নিজের হাতে রেখেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতার জন্য সৌগত রায়, ফিরহাদ হাকিম ও কুণাল ঘোষদের মতো অভিজ্ঞ নেতাদের ওপর ভরসা রাখা হয়েছে। জঙ্গলমহল থেকে উত্তরবঙ্গ— সর্বত্রই দেব, জুন মালিয়া ও শতাব্দী রায়ের মতো তারকা ও পোড়খাওয়া নেতাদের মোতায়েন করেছে দল।
এজেন্টদের জন্য কড়া ‘ফতোয়া’ ও সতর্কতা
শুধুমাত্র রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, গণনাকেন্দ্রের ভেতরে থাকা কাউন্টিং এজেন্টদের জন্যও জারি হয়েছে একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশিকা। দীর্ঘ সময় ধরে তীক্ষ্ণ নজরদারি বজায় রাখতে এজেন্টদের হালকা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গণনাকেন্দ্রে বাইরের জল, পান বা বিড়ি-সিগারেট ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে শীর্ষ নেতৃত্ব। মূলত কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সংশয় থেকেই তৃণমূল এই ‘অপারেশন গণনা’ পরিকল্পনা করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিটি সেকেন্ডে নজর রেখে এক ইঞ্চি জমিও বিনা যুদ্ধে ছাড়তে নারাজ ঘাসফুল শিবিরের সেনাপতিরা।