মাঝরাতে ভাঙ্গরে তুলকালাম! পকেটে মদের বোতল নিয়ে পথচারীদের গালিগালাজ, ‘মদ্যপ’ পুলিশকে ঘিরে গণবিক্ষোভ

ভাঙ্গর: ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত প্রায় সাড়ে বারোটা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙ্গরের শোনপুকুর এলাকায় হঠাৎই শুরু হয় চরম উত্তেজনা। অভিযোগ, সাদা পোশাকের এক পুলিশ আধিকারিক মদ্যপ অবস্থায় রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে দাদাগিরি শুরু করেন। সাধারণ মানুষকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ এবং গাড়ি আটকে হয়রানি করার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত জনরোষের মুখে পড়েন ওই পুলিশকর্মী।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার গভীর রাতে শোনপুকুর এলাকায় এক ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়েন। তাঁর পরনে সাদা পোশাক থাকলেও তিনি নিজেকে পুলিশ কর্মী বলে দাবি করছিলেন। অভিযোগ, তিনি মদ্যপ অবস্থায় রাস্তার দুই দিকে প্রচুর গাড়ি আটকে দেন এবং চালক ও যাত্রীদের উদ্দেশে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। দীর্ঘক্ষণ এই পরিস্থিতি চলায় ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে সাধারণ মানুষের।
পকেটে মদের বোতল!
পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে উত্তেজিত পথচারী ও এলাকাবাসীরা ওই পুলিশ আধিকারিককে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ওই অফিসারের পকেটে মদের বোতল ছিল। এমনকি বারবার জিজ্ঞাসা করা সত্ত্বেও তিনি নিজের নাম বা সঠিক পরিচয় দিচ্ছিলেন না। তবে যাত্রীদের একাংশ জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির সঙ্গে থাকা অন্যান্য পুলিশকর্মীরা সংযত আচরণ করছিলেন বলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়নি। তাঁদের তৎপরতায় মদ্যপ পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন সাধারণ মানুষ।
থানায় নিয়ে যাওয়া হল অভিযুক্তকে
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ভাঙ্গর থানার পুলিশ বাহিনী। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে ওই অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার জেরে প্রায় এক ঘণ্টা ওই রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ফের গাড়ি চলাচল শুরু হয়।
ভোটের উত্তেজনার মধ্যেই খোদ পুলিশকর্মীর এমন ‘মাতলামি’ এবং দাদাগিরির ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।