সিংহম অফিসারও ব্যর্থ, ফলতার উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শেষ ভরসা সেই কেন্দ্রীয় বাহিনী!

সিংহম অফিসারও ব্যর্থ, ফলতার উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শেষ ভরসা সেই কেন্দ্রীয় বাহিনী!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে হয়ে উঠেছে। গত ২৯ এপ্রিল নির্বাচনের দিন ব্যাপক অনিয়ম, ভোটারদের হুমকি এবং মারধরের অভিযোগ ওঠার পর গোটা এলাকার জনমানসে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উত্তরপ্রদেশ থেকে দুঁদে ‘সিংহম’ অফিসার নিয়ে এসেও শেষ রক্ষা হয়নি; শেষ পর্যন্ত এলাকায় শান্তি ফেরাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপরই ভরসা রাখছে কমিশন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিক্ষোভ ও পুনর্নির্বাচনের প্রেক্ষাপট

গতকালের ঘটনার পর আজ সকাল থেকেই ফলতার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূল নেতৃত্বের অনুগামীরা সাধারণ ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে বাধা দিয়েছে এবং অনেককে শারীরিক নিগ্রহ করা হয়েছে। এই উত্তেজনার জেরে নির্বাচন কমিশন ১৪৪-ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের সহকারী কেন্দ্রসহ সব ২৮৫টি ভোটকেন্দ্রেই ভোট বাতিলের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ২১ মে পুনরায় ভোটগ্রহণ হবে এবং ২৪ মে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক চাপানউতোর

বর্তমানে ফলতার বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর টহল চলছে। বসানো হয়েছে বিশেষ চেকপোস্ট। বিজেপি এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর দাবি, এই ঘটনা তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্য ও পেশিশক্তির বহিঃপ্রকাশ। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে বিরোধীদের ‘ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দিয়েছে। উন্নয়নের বদলে এলাকায় হিংসা ও হুমকির রাজনীতি প্রাধান্য পাওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে গভীর হতাশা দেখা দিয়েছে। এখন ২১ তারিখের পুনর্নির্বাচন কতটা অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *