লোডশেডিং রুখতে মরিয়া কমিশন, গণনাকেন্দ্রে বিদ্যুৎ পরিষেবা সচল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগে গণনাকেন্দ্রগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। রবিবার সন্ধ্যায় এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানান, ২০২১ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। মূলত ‘নন্দীগ্রাম বিতর্ক’ এবং কালবৈশাখীর পূর্বাভাসের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ পরিকল্পনা।
বিদ্যুৎ দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় ও বিকল্প ব্যবস্থা
সিইও জানান, গণনার দিন কোথাও যাতে লোডশেডিং না হয়, তা নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ পর্ষদ (WBSEDCL) এবং সিইএসসি (CESC)-র সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের কালবৈশাখীর পূর্বাভাস থাকায় ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রবিবার রাতেও বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রধান সচিবের সঙ্গে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সমন্বয় সেরেছেন নির্বাচনী আধিকারিকরা।
রাজনৈতিক বিতর্ক এড়াতে বাড়তি সতর্কতা
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের গণনার সময় লোডশেডিং এবং ফলাফল পাল্টে যাওয়ার যে অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেস তুলেছিল, এবার সেই ছায়া যাতে না পড়ে সেদিকেই মূল নজর কমিশনের। ইতিপূর্বে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে দলীয় কর্মীদের সতর্ক করেছিলেন। রাজনৈতিক দলগুলোর এই উদ্বেগ এবং জনমানসে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশন এবার জেনারেটর ব্যাকআপ ও সরাসরি বিদ্যুৎ দপ্তরের নজরদারিতে গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সব মিলিয়ে, যেকোনো মূল্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট রুখে নির্বিঘ্নে ফলাফল ঘোষণা করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।