ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার আর্জি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট!

পশ্চিমবঙ্গে ভোটগণনা চলাকালীনই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখা সংক্রান্ত মামলায় বড় ধাক্কা খেল মামলাকারী পক্ষ। ভোটের পরেও রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রেখে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা হয়েছিল, সোমবার তার দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আদালতের নির্দেশে নয়, বরং রাজনৈতিক কার্যনির্বাহীদের মাধ্যমেই রাজ্য পরিচালিত হওয়া উচিত।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী অশান্তির নজির টেনে এই মামলাটি করা হয়েছিল। মামলাকারীর আইনজীবী ভি গিরি আদালতে দ্রুত শুনানির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বাহিনীর অবস্থান নিয়ে তাদের আর বিশেষ কোনো ভূমিকা থাকে না।
আদালতের অবস্থান ও পর্যবেক্ষণ
শুনানির সময় শীর্ষ আদালত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে। বিচারপতিরা জানান, প্রশাসন পরিচালনা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব রাজনৈতিক কার্যনির্বাহীদের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। আদালত মনে করে, প্রতিটি বিষয়ে বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। তবে মামলাটি পুরোপুরি খারিজ হয়নি; বরং রাজ্য ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত যে মূল মামলাটি আগামী ১১ মে শোনার কথা রয়েছে, তার সঙ্গেই এই আবেদনটি সংযুক্ত করা হয়েছে।
অশান্তির আশঙ্কা ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ
রাজ্যে অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং হিংসার বহু অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে ভোট পরবর্তী সময়ে বিরোধী কর্মীদের ওপর হামলা বা ঘরছাড়া হওয়ার মতো ঘটনা রুখতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতির দাবি জানানো হয়েছিল। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সম্পূর্ণ দায়ভার রাজ্য পুলিশের ওপর বর্তাচ্ছে। ১১ মে মূল মামলার শুনানিতে আদালত কী রায় দেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। তবে আপাতত বাড়তি নিরাপত্তার বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ না মেলায় প্রশাসনের ওপর চাপ ও দায়বদ্ধতা উভয়ই বাড়ল বলে মনে করা হচ্ছে।