ঝালমুড়ির ঝাঁঝে ধরাশায়ী তৃণমূল, বিপুল জয়ের লক্ষ্যে মুরলীধর সেন লেনে বিজেপির অকাল হোলি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ট্রেন্ডে স্পষ্ট পরিবর্তনের ইঙ্গিত। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৭০টি আসনে এগিয়ে থেকে ম্যাজিক ফিগার অতিক্রম করেছে গেরুয়া শিবির। বিপরীতে গত এক দশকের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস থমকে গিয়েছে মাত্র ১০৩টি আসনে। ফলের এই আভাস আসতেই উত্তর থেকে দক্ষিণ— রাজ্যজুড়ে উৎসবে মেতেছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।
উদ্যাপনেও যখন রাজনীতির মোড়ক
কলকাতার মুরলীধর সেন লেনে বিজেপির পুরনো কার্যালয়ে এখন উৎসবের মেজাজ। সেখানে কর্মীদের মধ্যে কেবল আবির খেলা বা মিষ্টি বিতরণ নয়, বিশেষভাবে নজর কেড়েছে ঝালমুড়ি বিলির দৃশ্য। মূলত নির্বাচনী প্রচারের সময় ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে তৃণমূলের কটাক্ষের জবাব দিতেই এই অভিনব উদ্যোগ। দলীয় কার্যালয়ের সামনে টাঙানো পোস্টারে লেখা হয়েছে, ‘ঝালমুড়ির ঝাঁঝে উড়ে গেল তৃণমূল’। প্রধানমন্ত্রীর সেই ঝালমুড়ি খাওয়া যে নিছক সৌজন্য ছিল না, বরং রাজনৈতিকভাবে তৃণমূলকে ধরাশায়ী করার এক প্রতীকী হাতিয়ার ছিল, আজ কর্মীদের উচ্ছ্বাসেই তা স্পষ্ট।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও রাজনৈতিক সমীকরণ
নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজেই ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে, ৪ মে জয়ের উৎসবে ঝালমুড়ি বিতরণ করা হবে। আজ সেই কথা বাস্তবায়িত হতে দেখে উজ্জীবিত নিচুতলার কর্মীরা। ঝাড়গ্রামের চারটি আসনেই বিজেপি প্রার্থীর এগিয়ে থাকা দলের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক দলের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া এবং বিজেপির নিপুণ প্রচার কৌশলই এই অভাবনীয় ফলের প্রধান কারণ। এই জয়ের ধারা অব্যাহত থাকলে দীর্ঘ সময় পর বাংলার মসনদে ক্ষমতার পালাবদল ঘটতে চলেছে, যার প্রভাব জাতীয় রাজনীতিতেও সুদূরপ্রসারী হবে।