ভোটযুদ্ধে হারলেও বিচার পাওয়ার দাবিতে অনড় কলতান! জলহাটিতে জারি থাকছে বামেদের লড়াই

জলহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফল ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। আরজি কর আবহে আন্দোলনের অন্যতম মুখ কলতান দাশগুপ্তকে প্রার্থী করে সিপিএম বড় চমক দিলেও, শেষ পর্যন্ত জয়ের মালা উঠেছে ‘অভয়া’র মা তথা বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথের গলায়। তবে এই হারকে কেবল সংখ্যাতত্ত্বের পরাজয় হিসেবে দেখছে না বাম শিবির। নির্বাচনী লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়লেও রাজপথের আন্দোলনে বিন্দুমাত্র পিছু হটতে রাজি নন কলতান দাশগুপ্ত।
নির্বাচনী প্রচারে অভয়ার সুবিচার, দুর্নীতি এবং বেকারত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে সামনে এনেছিলেন কলতান। এমনকি আন্দোলন করতে গিয়ে কারাভোগও করতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু ভোটের ফলে দেখা যাচ্ছে, বামেদের প্রতি মানুষের আস্থার অভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি। রত্না দেবনাথের জয়কে ‘মেয়ের আবেগের জয়’ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত কোনো ক্ষোভ প্রকাশ না করলেও, বিজেপির এই উত্থানকে রাজ্যের ভবিষ্যতের জন্য শুভ লক্ষণ বলে মনে করছেন না এই বাম নেতা।
আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পরাজয়ের পর কলতান দাশগুপ্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বিচার পাওয়ার লড়াই কোনো নির্দিষ্ট ভোট বা ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না। তাঁর মতে, “সুবিচার আজও মেলেনি, তাই সেই দাবিতে লড়াই জারি থাকবে।” বিজেপির জয়কে তিনি বাংলার অন্ধকারের সূচনা বলে মন্তব্য করেছেন। একইসঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির ফাইল খোলার যে হুঁশিয়ারি বিজেপি দিয়ে আসছিল, কেন্দ্র ও রাজ্যে ক্ষমতার বিন্যাসে এবার সেই ফাইলগুলো সত্যিই জনসমক্ষে আসে কি না, সেদিকেই নজর রাখছেন তিনি।
ফলাফলের প্রভাব ও রাজপথের বার্তা
জলহাটির এই নির্বাচনী ফলাফল বামেদের জন্য বড় ধাক্কা হলেও, কলতান দাশগুপ্ত একে কেবল একটি সাময়িক বিরতি হিসেবে দেখছেন। তাঁর সাফ কথা, পরাজয় মানেই আন্দোলনের পরিসমাপ্তি নয়। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষের পাশে থেকে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। ফলে ভোটের ময়দান থেকে বিজয় মিছিল বিদায় নিলেও, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান যে জলহাটির বাতাসে আরও কিছুদিন প্রতিধ্বনিত হবে, তা কলতানের অনড় অবস্থান থেকেই স্পষ্ট।