মোদীর হুঁশিয়ারিই কি সত্যি হলো, মমতার বাংলায় ৯ জেলায় কেন শূন্য হাতে ফিরল তৃণমূল?

মোদীর হুঁশিয়ারিই কি সত্যি হলো, মমতার বাংলায় ৯ জেলায় কেন শূন্য হাতে ফিরল তৃণমূল?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে মোদীর সেই বহুল আলোচিত হুঁশিয়ারিই যেন শেষ পর্যন্ত বাস্তব রূপ পেল। নির্বাচনী প্রচারের ময়দানে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছিলেন যে, রাজ্যের অনেক জেলায় এবার তৃণমূল কংগ্রেস খাতা খুলতে পারবে না। গণনা শেষে দেখা গেল, উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল—রাজ্যের মোট ৯টি জেলায় ঘাসফুল শিবির সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। এই জেলাগুলোতে সবকটি আসনেই জয়ী হয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছে বিজেপি।

উত্তরবঙ্গে গেরুয়া ঝড়ে ধুয়ে মুছে সাফ ঘাসফুল

উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এবার কার্যত কোনো অস্তিত্বই থাকল না শাসক দলের। আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং এবং কালিম্পং—এই চার জেলার কোনো আসনেই তৃণমূল বা তাদের জোট সঙ্গীরা জয়লাভ করতে পারেনি। আলিপুরদুয়ারের ৫টি, জলপাইগুড়ির ৭টি এবং দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের সবকটি আসনেই ফুটেছে পদ্ম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিমল গুরুংকে পাশে পাওয়া এবং চা বাগান ও রেল যোগাযোগ নিয়ে কেন্দ্রের বড় প্রতিশ্রুতি উত্তরবঙ্গে বিজেপির পালে হাওয়া দিয়েছে। অন্যদিকে, পাহাড়ের নেতা অনীত থাপার মতে, প্রবল প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়ার কারণেই সেখানে ধরাশায়ী হতে হয়েছে তাঁদের।

জঙ্গলমহল ও শিল্পাঞ্চলেও বিজেপির একাধিপত্য

বিজেপির জয়জয়কার শুধু উত্তরবঙ্গেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গলমহল ও শিল্পাঞ্চলেও বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রাম জেলায় খাতা খুলতে ব্যর্থ হয়েছে তৃণমূল। পুরুলিয়ার ৯টি, বাঁকুড়ার ১২টি এবং ঝাড়গ্রামের ৪টি আসনের সবকটিতেই জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা। মূলত আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক এবং কুর্মি সমাজের সমর্থন বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়াই এই অভাবনীয় ফলের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমনকি পশ্চিম বর্ধমানের শিল্পাঞ্চলেও তৃণমূলের দুর্গ ধসে পড়েছে; ২০২১ সালের সাফল্যের রেশটুকু হারিয়ে এবার সেখানকার সবকটি আসনই দখল করে নিয়েছে বিজেপি।

মোদী ম্যাজিক এবং স্থানীয় ইস্যুগুলোর সঠিক মেলবন্ধনই কি এই ‘ক্লিন সুইপ’ নিশ্চিত করল, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ৯ জেলায় তৃণমূলের এই ‘শূন্য’ হওয়া রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *