বাংলার মসনদে এবার গেরুয়া আবির! কে হচ্ছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী?

দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে দুই শতাধিক আসন নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতায় আসছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর এখন রাজ্যজুড়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— কে বসছেন রাইটার্স বিল্ডিংসের সেই কাঙ্ক্ষিত চেয়ারে? সোনার বাংলার নতুন কাণ্ডারি হিসেবে ইতিমধ্যেই তিন হেভিওয়েট নেতার নাম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে তিন হেভিওয়েট
রাজ্য ও দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের অন্দরে মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য যে নামগুলো সবচেয়ে বেশি জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে, তার শীর্ষে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের দুর্গ পতনে তাঁর রণকৌশল এবং বড় ব্যবধানে জয় তাঁকে এই দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে রেখেছে। তবে শুভেন্দু ছাড়াও আলোচনায় উঠে এসেছে বিশিষ্ট তাত্ত্বিক নেতা তথা রাসবিহারী কেন্দ্রের জয়ী প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্তের নাম। প্রশাসনিক দক্ষতা ও দিল্লির সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নেকনজরে রয়েছেন। পাশাপাশি, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নামও বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। দলের দীর্ঘদিনের নিষ্ঠাবান নেতা হিসেবে তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বড় হাতিয়ার হতে পারে।
পরাজয় মানতে নারাজ তৃণমূল, আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি
নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। পরাজয় স্বীকার না করে তিনি ইতিমধ্যেই বিরোধী জোটের নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তৃণমূল শিবিরের দাবি, অনেক জায়গাতেই গণনায় অনিয়ম হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় স্তরে আন্দোলন গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা করছে ঘাসফুল শিবির।
বিজেপির এই অভাবনীয় জয়ের নেপথ্যে মেরুকরণ এবং শাসকদলের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা তীব্র প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় তৃণমূলের ফলাফল বিপর্যয় এই পটপরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করেছে। এখন দেখার বিষয়, দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই তিন হেভিওয়েটের মধ্যে কার হাতে বাংলার চাবিকাঠি তুলে দেয়। আদতে নতুন সরকার গঠনের মাধ্যমে রাজ্যের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোই হবে বিজেপির প্রধান চ্যালেঞ্জ।