মমতাকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন শুভেন্দু, ফিরল অজয় মুখোপাধ্যায়ের সেই স্মৃতি!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক অভাবনীয় মুহূর্তের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে এই জয়ের চেয়েও বড় চমক হয়ে দাঁড়িয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়। এই জয়ের মধ্য দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী কেবল নিজের রাজনৈতিক গুরুত্বই প্রমাণ করেননি, বরং বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসের এক পুরনো নজিরকে বর্তমানের পাতায় ফিরিয়ে এনেছেন।
অজয় মুখোপাধ্যায়ের রেকর্ডে ভাগ বসালেন শুভেন্দু
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ১৯৬৭ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল চন্দ্র সেনকে পরাজিত করে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন অজয় মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘ ৫৯ বছর পর সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটালেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে পরাজিত করার এই কৃতিত্ব তাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন আসীন মুখ্যমন্ত্রীকে তার নিজ কেন্দ্রে বা প্রতিদ্বন্দ্বী কেন্দ্রে পরাজিত করা অত্যন্ত কঠিন সাধ্য, যা শুভেন্দু অবলীলায় সম্পন্ন করেছেন।
ভবিষ্যৎ রাজনীতির নতুন মোড়
শুভেন্দু অধিকারীর এই দ্বিমুখী জয় এবং মুখ্যমন্ত্রীকে হারানোর ঘটনা রাজ্যের শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের জন্যই এক বড় বার্তা। এই ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, গ্রামীণ বাংলার পাশাপাশি শহুরে ভোটারদের মধ্যেও শুভেন্দুর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পরাজয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে। আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো এবং বিধানসভার ভেতরে বিরোধীদের ভূমিকা এই জয়ের ফলে আরও জোরালো হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। শুভেন্দুর এই ‘জায়ান্ট কিলার’ ইমেজ তাকে আগামী দিনের বঙ্গ রাজনীতিতে এক প্রধান মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল।