আটলান্টিক সাগরে প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাসের হানা, ৩ জনের মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

আটলান্টিক সাগরে প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাসের হানা, ৩ জনের মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

কেপ ভার্দে ৬ মে, ২০২৬। বিশ্ব যখন করোনা অতিমারির স্মৃতি কাটিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে, ঠিক তখনই এক নতুন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে। ‘এমভি হন্ডিয়াস’ (MV Hondius) নামক একটি ডাচ প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণে এখনও পর্যন্ত ৩ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই ঘটনাকে ‘গুরুতর’ আখ্যা দিলেও সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও বর্তমান পরিস্থিতি

গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে ১৪৭ জন যাত্রী ও ক্রু নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল প্রমোদতরীটি। যাত্রাপথে কয়েকজনের মধ্যে তীব্র শ্বাসকষ্ট, জ্বর এবং পেটের সমস্যা দেখা দেয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মৃতদের মধ্যে এক ডাচ দম্পতি এবং একজন জার্মান নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া এক ব্রিটিশ নাগরিককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি পশ্চিম আফ্রিকার কেপ ভার্দে উপকূলের কাছে অবস্থান করছে, তবে সংক্রমণের ভয়ে সেটিকে বন্দরে ভেড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

কোভিড-১৯-এর থেকেও কি ভয়ানক?

বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস সংক্রমণের ভয়াবহতা এবং এর ছড়িয়ে পড়ার ধরন কোভিড-১৯ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

  • সংক্রমণের হার: কোভিডের মতো এটি বায়ুবাহিত নয় এবং খুব দ্রুত ছড়ায় না। সাধারণত ইঁদুরের মলমূত্র বা লালার সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস ছড়ায়। তবে প্রমোদতরীর এই ঘটনায় বিজ্ঞানীরা ‘আন্দিজ স্ট্রেন’ (Andes strain)-এর উপস্থিতি সন্দেহ করছেন, যা সীমিত পরিসরে মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে।
  • মৃত্যুর হার: হান্টাভাইরাস কোভিডের তুলনায় অনেক বেশি প্রাণঘাতী। এর মৃত্যুর হার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। কোভিডের বিস্তার বেশি হলেও হান্টাভাইরাসের তীব্রতা ও মারণক্ষমতা চিকিৎসকদের ভাবিয়ে তুলছে।

বিশেষজ্ঞদের মত

হু (WHO)-র মহামারি বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যান কারখোভ জানিয়েছেন, “আমরা মনে করছি প্রমোদতরীর বদ্ধ পরিবেশে ঘনিষ্ঠ মেলামেশার কারণেই এটি ছড়িয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য এই ভাইরাসের ঝুঁকি অত্যন্ত কম। কারণ এর রিপ্রোডাকশন নম্বর (R₀) কোভিডের তুলনায় প্রায় শূন্যের কাছাকাছি।”

প্রমোদতরীটিতে কোনও ইঁদুরের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, যাত্রীরা আর্জেন্টিনা থেকে ওঠার আগেই কোনওভাবে সংক্রামিত হয়েছিলেন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং জাহাজটিকে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *