তৃণমূলের শত্রু খোদ তৃণমূলই, সরকার পতনের পর বিস্ফোরক বীরভূমের কাজল শেখ!

তৃণমূলের শত্রু খোদ তৃণমূলই, সরকার পতনের পর বিস্ফোরক বীরভূমের কাজল শেখ!

রাজ্যে সরকার পতনের পর বীরভূমের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নানুরে দলীয় নেতা খুনের ঘটনায় এবার সরাসরি নিজ দলেরই একাংশের বিরুদ্ধে ‘বেইমানি’র গুরুতর অভিযোগ তুললেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা হাসন বিধানসভার বিধায়ক কাজল শেখ। তাঁর সাফ কথা, তৃণমূলকে অন্য কোনও শক্তি হারাতে পারত না, তৃণমূলই আসলে তৃণমূলের পরাজয় নিশ্চিত করেছে।

অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও খুনের রাজনীতি

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই নানুরের কীর্ণাহারসহ বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক অশান্তি চরমে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার দুপুরে নানুরের সন্তোষপুর গ্রামে আবির শেখ নামে এক তৃণমূল নেতাকে গলা কেটে খুনের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হন বুথ সভাপতি চান্দু শেখ। বুধবার সন্ধ্যায় মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে কাজল শেখ দাবি করেন, দলেরই একটি অংশ বেইমানি করায় আজ এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, যারা এই হামলা চালিয়েছে তারা একসময় বামপন্থী রাজনীতি করত এবং বর্তমানে বিজেপির ছত্রছায়ায় এসে এই কাজ করছে।

পতনের কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

কাজল শেখের এই বিস্ফোরক মন্তব্য দলের অন্দরে থাকা গভীর ফাটলকেই সামনে এনে দিয়েছে। তাঁর বিশ্লেষণে, বাংলায় তৃণমূলের হারের নেপথ্যে অনেক নেতা-কর্মীর নিষ্ক্রিয়তা এবং বিশ্বাসঘাতকতা কাজ করেছে। এই মন্তব্যের ফলে বীরভূমের মতো স্পর্শকাতর জেলায় দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও প্রকট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে বিরোধীদের দাপট বাড়ার সাথে সাথে তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে যে ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে জেলা রাজনীতিতে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকার পতনের ধাক্কার পর দলের এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত সামলানোই এখন জোড়াফুল শিবিরের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *