জাত তুলে কটূক্তির অভিযোগ, স্মৃতি মান্ধানার প্রাক্তন হবু স্বামী পলাশ মুচ্ছলের বিরুদ্ধে মামলা

স্মৃতি মান্ধানার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ এবং ব্যক্তিগত টানাপড়েনের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বড়সড় আইনি জটিলতায় জড়ালেন জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক পলাশ মুচ্ছল। এবার তাঁর বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ক্রিকেটারের শৈশবের বন্ধু বিদ্ঞান মানের আনা এই অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিনোদন ও ক্রীড়া জগত।
আর্থিক প্রতারণা ও জাতিগত বিদ্বেষের অভিযোগ
অভিযোগকারী বিদ্ঞান মানের দাবি, ‘নজরিয়া’ নামক একটি চলচ্চিত্র প্রকল্পের জন্য পলাশ তাঁর কাছ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে, ছয় মাসের মধ্যে ছবির কাজ শেষ হবে এবং বিদ্ঞানকে সেখানে একটি চরিত্রে সুযোগ দেওয়া হবে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ছবির কাজ শুরু হয়নি। বিদ্ঞান অভিযোগ করেন, পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে পলাশ গত ২২ নভেম্বর সাংলিতে এক বৈঠকের সময় তাঁকে উদ্দেশ্য করে চরম জাতিগত বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেন এবং অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করেন। বিদ্ঞানের মতে, পলাশ মুচ্ছল কেবল প্রতারণাই করেননি, বরং নিম্নরুচির মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
পাল্টা মানহানির মামলা ও সম্পর্কের টানাপড়েন
আইনি লড়াই অবশ্য একতরফা নয়। এই অভিযোগ ওঠার আগেই বিদ্ঞান মানের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা ঠুকে দিয়েছেন পলাশ মুচ্ছল। পলাশের আইনজীবী শ্রেয়াংশ মিথারের দাবি, তাঁর মক্কেলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এই সমস্ত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে। পলাশ সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, গুজব ছড়িয়ে তাঁকে জনসমক্ষে বিচার করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
এই আইনি বিবাদের সমান্তরালে পলাশ ও স্মৃতি মান্ধানার ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে তাঁদের বিয়ে হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হয়ে যায়। বর্তমানে এই দুই তারকা একে অপরকে সামাজিক মাধ্যমে আনফলো করেছেন। একদিকে ব্যক্তিগত জীবনের বিপর্যয় এবং অন্যদিকে গুরুতর আইনি মামলা— সব মিলিয়ে পলাশ মুচ্ছলের কেরিয়ার ও সামাজিক অবস্থান এখন বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে। এই মামলার তদন্তে বর্ণবিদ্বেষের বিষয়টি প্রমাণিত হলে আইনিভাবে বেশ বিপাকে পড়তে পারেন এই সঙ্গীত পরিচালক।