তখত বদলের পথে বাংলা! রাজভবনে বিধায়কদের তালিকা জমা দিয়ে সরকার গঠনের কাউন্টডাউন শুরু

তখত বদলের পথে বাংলা! রাজভবনে বিধায়কদের তালিকা জমা দিয়ে সরকার গঠনের কাউন্টডাউন শুরু

বাংলায় দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদক্ষেপ হিসেবে রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল আর. এন. রবির হাতে নবনির্বাচিত বিধায়কদের নামের তালিকা সম্বলিত সরকারি গেজেট নোটিফিকেশন তুলে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপের ফলে নতুন বিধানসভা গঠনের আইনি পথ প্রশস্ত হলো। তবে বিপুল জনমত হারানো সত্ত্বেও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিজেপির, নবান্নে প্রশাসনিক রদবদল

নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিজেপি। অন্যদিকে, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে থমকে গিয়ে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। নিয়ম অনুযায়ী গেজেট বিজ্ঞপ্তি জমা পড়ার পর সরকার গঠনের দায়ভার এখন সম্পূর্ণভাবে রাজভবনের ওপর। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে রাজ্যপাল সরকার গঠনের আহ্বান জানালে বর্তমান মন্ত্রিসভা আইনিভাবে ভেঙে গেছে বলে গণ্য হবে। এদিকে, ক্ষমতার এই রদবদলের আবহেই নবান্নে প্রশাসনিক স্তরে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে; অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন বর্তমান মুখ্যসচিব।

শপথের প্রস্তুতি ও সাংবিধানিক জট

বিজেপি শিবিরে এখন সাজ সাজ রব। আগামী ৯ মে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের লক্ষ্য নিয়ে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে চলছে। আগামী ৮ মে বিকেলের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম। দীর্ঘ টালবাহানা কাটিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে কে দায়িত্ব নেবেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। জনমত অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তরের এই মুহূর্তে রাজ্যপাল শেষ পর্যন্ত কী আইনি পদক্ষেপ নেন এবং কীভাবে এই সাংবিধানিক অচলাবস্থা কাটান, তার ওপরই নির্ভর করছে বাংলার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *