শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী থেকে রাজনীতির অকাল বলি, কে এই চন্দ্রনাথ রথ?

আগামী শনিবার ব্রিগেড ময়দানে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। ঠিক তার প্রাক্কালে বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতীদের গুলিতে প্রাণ হারালেন শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। খুনের ধরন দেখে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং পেশাদার ঘাতকদের কাজ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, রাতে গাড়ি নিয়ে ফ্ল্যাটে ফেরার পথে একটি অন্য গাড়ি চন্দ্রনাথের গতিরোধ করে এবং মোটরবাইকে আসা দুষ্কৃতীরা পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাঁকে গুলি করে। রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মেধাবী ছাত্র থেকে রাজনীতির আঙিনা
পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর এলাকার বাসিন্দা চন্দ্রনাথের বেড়ে ওঠা রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের আদর্শে। এক সময় ভারতীয় বায়ুসেনায় যোগ দিলেও আধ্যাত্মিকতার টানে সেই চাকরি ছেড়ে কর্পোরেট সংস্থায় যোগ দেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত রাজনীতির অমোঘ টান এড়াতে পারেননি। ২০১৯ সাল থেকে শুভেন্দু অধিকারী যখন রাজ্যের জলসম্পদ মন্ত্রী, তখন থেকেই তাঁর আপ্তসহায়ক হিসেবে কাজ শুরু করেন চন্দ্রনাথ। গত কয়েক বছরে তিনি কার্যত শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী হয়ে উঠেছিলেন। রাজনৈতিক মহলে চর্চা ছিল, নতুন সরকারে শুভেন্দু অধিকারী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এলে চন্দ্রনাথকেও বড় কোনো প্রশাসনিক পদে দেখা যেতে পারে।
তদন্তে বিশেষ দল ও নিরাপত্তার কড়াকড়ি
এই হাই-প্রোফাইল খুনের রহস্য উদঘাটনে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি-র উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ময়দানে নেমেছেন। গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’। পুলিশ ইতিমধ্যেই এলাকা থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং একটি ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগানো গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে বারাসাত মেডিক্যাল কলেজে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল ময়নাতদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে।
শপথ অনুষ্ঠানের ঠিক আগে এমন ঘটনায় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে চন্দ্রনাথের আবাসন থেকে যশোর রোড পর্যন্ত এলাকা পুলিশি পাহারায় মুড়ে ফেলা হয়েছে এবং মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই খুনের ঘটনা শুধু একজন দক্ষ সংগঠকের অবসান নয়, বরং আগামী দিনের রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত।