নির্বাচনী জয়েই কি রোষের শিকার চন্দ্রনাথ, খুনের নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের মতো হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর জয়ই কি কাল হলো তাঁর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের জন্য? উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এখন এই প্রশ্নই জোরালো হয়ে উঠেছে। বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ভবানীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা চন্দ্রনাথকে সুপরিকল্পিতভাবে এবং পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা স্রেফ অপরাধমূলক কাজ নয়, বরং এর গভীরে লুকিয়ে রয়েছে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।
তদন্তে বিশেষ দল ও রেইকির ছক
চন্দ্রনাথ রথকে খুনের ঘটনায় ইতিমদ্যেই রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, খুনের আগে হামলাকারীরা দীর্ঘক্ষণ ওই এলাকায় রেইকি বা নজরদারি চালিয়েছিল। মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ার যে সংকীর্ণ গলিতে হামলা চালানো হয়, সেখানে পালানোর পথ আগে থেকেই ঠিক করে রাখা হয়েছিল। এমনকি পুলিশের চোখে ধুলো দিতে হামলাকারীরা শিলিগুড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্লেট লাগানো একটি গাড়ি ব্যবহার করেছিল, যা পরে ঘটনাস্থলের কাছেই ফেলে রেখে যায় তারা। সিআইডি এবং রাজ্য পুলিশের আধিকারিকেরা যৌথভাবে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য পরিণতি
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, বিশেষ করে অমিত শাহ কথা বলেছেন। বিজেপির অভিযোগ, ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামের ফলাফল বিরোধীরা মেনে নিতে না পেরেই শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মানুষকে টার্গেট করছে। বারাসাত মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্তের সময় উপস্থিত থেকে শুভেন্দু পুলিশি তদন্তের ওপর আস্থা প্রকাশ করলেও, এই ঘটনা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। তদন্তের গতিপ্রকৃতি যদি দ্রুত কোনো কিনারা করতে না পারে, তবে আগামী দিনে এই ইস্যু কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।