তিন দিন ধরে রেইকি, ভুয়ো নম্বর প্লেট: চন্দ্রনাথ রথ খুনে পেশাদার ঘাতকদের ছক! ১০টি বড় আপডেট

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অন্দরমহল বর্তমানে উত্তাল বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে। গত বুধবার রাতে চণ্ডীপুরে মাত্র ৫০ সেকেন্ডের এক ঝোড়ো অভিযানে প্রাণ হারান ৪১ বছর বয়সী চন্দ্রনাথ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এটি কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, বরং অত্যন্ত প্রশিক্ষিত পেশাদার খুনিদের সুপরিকল্পিত কাজ। হামলার সময় ব্যবহৃত অত্যাধুনিক ‘গ্লক ৪৭এক্স’ পিস্তল এবং ঘাতকদের পালানোর ধরন সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
পরিকল্পিত রেইকি ও নিঁখুত অপারেশন
তদন্তে উঠে এসেছে যে, হামলাকারীরা গত ৩-৪ দিন ধরে ওই এলাকায় রেইকি বা নজরদারি চালিয়েছিল। বুধবার রাতে চন্দ্রনাথ যখন গাড়িতে ছিলেন, তখন মোটরসাইকেলে আসা আততায়ীরা সামনের জানলা দিয়ে লক্ষ্য করে ১০ রাউন্ড গুলি চালায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনটি গুলি চন্দ্রনাথের বুক ও পেটে বিদ্ধ হয়, যার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় তাঁর গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরাও গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেছে এবং ঘাতকদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির নম্বর প্লেট ভুয়া বলে শনাক্ত করেছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন
এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তাঁর ছায়াসঙ্গীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এই ঘটনার সময় বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন চন্দ্রনাথ, যা মামলার এক গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, কথা বলার মাঝখাতেই তিনি শোরগোল শুনতে পান এবং পরবর্তী কলে জানতে পারেন যে চন্দ্রনাথ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
সম্ভাব্য প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
চন্দ্রনাথ রথের শেষযাত্রায় চণ্ডীপুরের জনসমুদ্র প্রমাণ করেছে এই ঘটনা স্থানীয় স্তরে কতটা ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। পেশাদার শুটারদের ব্যবহার এবং জাল নম্বর প্লেটের ব্যবহার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, অপরাধীরা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। এই ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার স্থিতিশীলতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। যদি দ্রুত মূল অপরাধীদের গ্রেফতার করা না যায়, তবে রাজনৈতিক সংঘাত আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশ বর্তমানে একটি পরিত্যক্ত গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পলাতক মূল ঘাতকের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।