কালীঘাটে মমতার বাড়ির সামনে বিজেপি সমর্থকদের হুল্লোড় এবং ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানে নজিরবিহীন উত্তেজনা!

শনিবার ব্রিগেডের ময়দানে যখন রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ গ্রহণ করছেন, ঠিক তখনই দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে তৈরি হলো এক নজিরবিহীন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। একদল বিজেপি সমর্থক বাইক নিয়ে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে পৌঁছে গগনভেদী ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং বড়সড় কোনো অশান্তি রুখতে তড়িঘড়ি সেখানে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই কালীঘাটের নিরাপত্তা বলয়ে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, শনিবারের এই ঘটনা তাকে এক নতুন মাত্রা প্রদান করল।
নিরাপত্তা বলয় ও প্রশাসনের সক্রিয়তা
গত কয়েক দিন ধরেই কালীঘাটের চিরপরিচিত সেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেশ কিছু রদবদল লক্ষ করা গিয়েছে। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের সেই স্থায়ী গার্ডরেলগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পুলিশের সংখ্যাও আগের তুলনায় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বরাদ্দ প্রোটোকল বজায় রাখা হয়েছে, কিন্তু তাঁর বাড়ির গেটের সামনে বিজেপি সমর্থকদের এই আকস্মিক ভিড় জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। একইভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকেও বেশ কিছু কড়াকড়ি শিথিল করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘প্রাক্তন’ পরিচিতি ও রাজনৈতিক মেরুকরণ
প্রশাসনিক ও সামাজিক পরিবর্তনের এই আবহে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ফেসবুক প্রোফাইল নিয়ে এদিন বেশ কিছুক্ষণ ধরে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলে। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেও বেশ কিছুক্ষণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বায়োতে নিজেকে ‘পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে পরিচয় দিতে দেখা যায়। সংবাদমাধ্যমে এই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরই অবশ্য তা সংশোধন করে ‘প্রাক্তন’ করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যখন নতুন মুখ্যমন্ত্রী জোড়াসাঁকোয় শান্তি ও ঐক্যের বার্তা দিচ্ছেন, অন্যদিকে তখন তাঁরই সমর্থকদের এমন বিজয়োল্লাস রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।