অস্তিত্ব সংকটে পুতিন এবং রুশ প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত বাসভবনে ইউক্রেনীয় ঘাতক বাহিনীর হানা!

দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রেশ এবার সরাসরি ক্রেমলিনের অন্দরমহলে আছড়ে পড়েছে। রাশিয়ার নোভগোরোদ এলাকায় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যক্তিগত বাসভবনের কাছে ইউক্রেনীয় ঘাতক বাহিনী হামলার চেষ্টা চালিয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট সামনে এসেছে। ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ফাঁস হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রুশ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, পুতিনকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য এক সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে। যদিও ইউক্রেন ও আমেরিকা এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে, তবুও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার শীর্ষ প্রশাসনিক মহলে নজিরবিহীন আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
নিরাপত্তার কড়াকড়ি ও শীর্ষ আধিকারিকের মৃত্যুতে আতঙ্ক
সম্প্রতি রুশ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফানিল সারভারোভের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুতিনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পারদ চড়তে শুরু করেছে। চলন্ত গাড়িতে বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে ওই শীর্ষ আধিকারিককে হত্যার ঘটনা রুশ গোয়েন্দাদের রীতিমতো দিশেহারা করে দিয়েছে। এর ফলে মস্কো ও নোভগোরোদের ভ্যালডাই সংলগ্ন বাসভবনগুলোতে পুতিনের যাতায়াত নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, যেকোনো মুহূর্তে ড্রোন বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের বাসভবন লক্ষ্য করে বিধ্বংসী হামলা চালানো হতে পারে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় বর্তমানে পুতিনের চারপাশ এমন এক নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে, যেখান দিয়ে সামান্য একটি মাছিও প্রবেশ করা আসাম্ভব।
পরিবর্তিত জীবনধারা ও আন্তর্জাতিক প্রভাব
প্রাণনাশের আশঙ্কায় পুতিনের প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ড এবং প্রশাসনিক সফরেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া তিনি এখন জনসমক্ষে আসছেন না এবং যে কেউ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলে পার হতে হচ্ছে কঠোর তল্লাশির বহুস্তরীয় প্রক্রিয়া। ড্রোনের হুমকি রুখতে সর্বাধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম চালু করা হয়েছে প্রতিটি বাসভবন চত্বরে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্থিরতা কেবল ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি রাশিয়ার সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মনোবলেও বড় আঘাত হানতে পারে। এই ষড়যন্ত্রের দাবি যদি প্রমাণিত হয়, তবে দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধ আরও ভয়াবহ ও প্রতিশোধমূলক রূপ ধারণ করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।