তামিলনাড়ুতে ৬২ বছরের দ্রাবিড় শাসনের অবসান, মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন ‘থালাপতি’ বিজয়!

তামিলনাড়ুতে ৬২ বছরের দ্রাবিড় শাসনের অবসান, মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন ‘থালাপতি’ বিজয়!

দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে আজ এক ঐতিহাসিক দিন। দীর্ঘ ৬২ বছরের প্রথা ভেঙে তামিলনাড়ুর নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয় (চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়)। রবিবার, ১০ মে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম ডিএমকে (DMK) বা এআইডিএমকে (AIADMK) বহির্ভূত কোনো দল তামিলনাড়ুর মসনদে বসল। রুপালি পর্দার ‘থালাপতি’ এখন থেকে বাস্তবের প্রশাসনিক প্রধান, যা নিয়ে গোটা ভারতজুড়ে তৈরি হয়েছে এক প্রবল উন্মাদনা।

‘আমি রাজবংশীয় নই, সাধারণ মানুষ’— প্রথম ভাষণেই মন জয়

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম ভাষণে বিজয় স্পষ্ট করে দেন যে তিনি কোনো রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে রাজনীতিতে আসেননি। সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তাঁর সেই চিরচেনা সংলাপ ‘এন নেঞ্জিল কুদিয়িরুক্কুম’ (আমার হৃদয়ে বসবাসকারী মানুষরা) দিয়ে বক্তব্য শুরু করে তিনি বলেন, “আমি কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে প্রতারণা করতে আসিনি। সাধারণ মানুষের শিকড় থেকে উঠে আসাই আমার প্রধান শক্তি।” তাঁর লক্ষ্য যে ‘ধর্মনিরপেক্ষ সামাজিক ন্যায়বিচার’ প্রতিষ্ঠা করা, তা তিনি নিজের ভাষণে বারবার গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেছেন।

প্রথম স্বাক্ষর ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের ধামাকা

মুখ্যমন্ত্রীর কুরসিতে বসেই বিজয় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে প্রথম স্বাক্ষর করেন, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলবে। তাঁর প্রথম সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজ্যে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পরিষেবা এখন থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। এর পাশাপাশি রাজ্যকে মাদক মুক্ত করার লক্ষ্যে কঠোর আইন প্রণয়ন এবং নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করার ফাইলে স্বাক্ষর করে নিজের প্রশাসনিক লড়াইয়ের মেজাজ বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। রাজনীতির কারবারিদের মতে, চিরাচরিত দ্রাবিড় রাজনীতির বিকল্প হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে বিজয়ের এই সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত কার্যকরী হবে।

সংখ্যাতত্ত্ব ও নতুন মন্ত্রিসভার সমীকরণ

নির্বাচনে বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম’ (TVK) ১০৮টি আসনে জিতলেও, ভিভিসি-র (VCK) সমর্থনে বর্তমানে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১২০ জন বিধায়ক। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ১১৮ পার করায় তাঁর সরকার এখন সুরক্ষিত। বিজয়ের সঙ্গে আজ আরও ৯ জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন, যার মধ্যে এস কীর্তনা একমাত্র মহিলা মন্ত্রী। আগামী ১৩ মে-র মধ্যে তাঁকে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। তামিলনাড়ুর এই পটপরিবর্তন ২০২৬ সালের আঞ্চলিক রাজনীতিতে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *