অপরা একাদশী: জীবনের দুর্ভোগ কাটাতে মেনে চলুন এই নিয়ম, জানুন দিনক্ষণ ও নিষিদ্ধ কাজ

অপরা একাদশী: জীবনের দুর্ভোগ কাটাতে মেনে চলুন এই নিয়ম, জানুন দিনক্ষণ ও নিষিদ্ধ কাজ

সনাতন ধর্মে একাদশী তিথি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা জগতের পালনকর্তা ভগবান বিষ্ণুর আরাধনায় উৎসর্গ করা হয়। বিশেষ করে জ্যৈষ্ঠ মাসের কৃষ্ণপক্ষের ‘অপরা একাদশী’ পুণ্য ও সমৃদ্ধি লাভের জন্য অনন্য এক দিন। ২০২৬ সালে আগামী ১৩ মে এই বিশেষ ব্রত পালিত হবে। শাস্ত্রমতে, অপরা কথাটির অর্থ হলো ‘অপার পুণ্য’। এই দিনে যথাযথ ভক্তি সহকারে পূজা করলে কেবল ধন-সম্পদ ও সৌভাগ্যই বৃদ্ধি পায় না, বরং অজ্ঞাতসারে করা পাপ থেকেও মুক্তি মেলে। তবে এই পবিত্র দিনে কিছু কাজ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা অমান্য করলে জীবনে ঘোর অমঙ্গল ও দারিদ্র্য নেমে আসতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।

তিলক ও তুলসী সংক্রান্ত সতর্কতা

একাদশীর অন্যতম প্রধান নিষিদ্ধ কাজ হলো তুলসী গাছ স্পর্শ করা বা জল অর্পণ করা। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই তিথিতে দেবী তুলসী ভগবান বিষ্ণুর জন্য নির্জলা ব্রত রাখেন। এই সময় তুলসী পাতা তোলা বা জল ঢেলে তাঁর সেবা করলে দেবী ক্ষুব্ধ হন, যা সরাসরি শ্রীবিষ্ণুর বিরাগভাজনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া ঘরে শুকিয়ে যাওয়া তুলসী গাছ রাখা অমঙ্গলের প্রতীক। একাদশীর আগেই মৃত বা শুকনো গাছ জলাশয়ে বিসর্জন দেওয়ার বিধান রয়েছে, অন্যথায় গৃহের ইতিবাচক শক্তি নষ্ট হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে।

খাদ্যাভ্যাস ও আচরণের প্রভাব

অপরা একাদশীর দিনে ঘরে কোনো প্রকার তামসিক খাদ্য আনা বা ভক্ষণ করা একেবারেই অনুচিত। মনে করা হয়, এই দিনে খাদ্যাভ্যাসে সংযম না থাকলে পারিবারিক বরকত ও শান্তি বিনষ্ট হয়। পঞ্জিকা অনুযায়ী, জ্যৈষ্ঠ মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথি শুরু হবে ১২ মে রাত ৯টা ৫৬ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৩ মে দুপুর ১টা ২৯ মিনিটে। উদয়া তিথি বিবেচনায় ১৩ মে বুধবার মূল ব্রত পালিত হবে। এই সময়ে সাত্ত্বিক জীবনধারা বজায় রাখা এবং নেতিবাচক কাজ থেকে দূরে থাকাই সৌভাগ্য ধরে রাখার একমাত্র উপায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *