WFH-এ বিশ্বসেরা নেদারল্যান্ডস, ভারত কেন পিছিয়ে? জেনে নিন মোদীর পরামর্শ ও বিশ্বের সেরা ৫ দেশের তালিকা!

WFH-এ বিশ্বসেরা নেদারল্যান্ডস, ভারত কেন পিছিয়ে? জেনে নিন মোদীর পরামর্শ ও বিশ্বের সেরা ৫ দেশের তালিকা!

করোনা মহামারীর পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন এলেও ভারতের প্রেক্ষাপটে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (WFH) বা বাড়ি থেকে কাজ করার বিষয়টি এখনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশ রক্ষায় বাড়ি থেকে কাজের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়ার পর এই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ট্রাফিক জ্যাম, দূষণ এবং আকাশছোঁয়া জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে যেখানে উন্নত দেশগুলো দূরবর্তী কাজের মডেলকে (Remote Work Model) আপন করে নিয়েছে, সেখানে ভারত কেন পিছিয়ে তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

শীর্ষে নেদারল্যান্ডস ও উন্নত বিশ্বের মডেল

বর্তমানে বাড়ি থেকে কাজ করার তালিকায় বিশ্বের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে নেদারল্যান্ডস। সেখানে প্রায় ৫২ শতাংশ কর্মী নিয়মিত বাড়ি থেকে কাজ করেন। উন্নত ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং কাজের নমনীয় পরিবেশ দেশটিকে এই সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা কানাডায় ৪৩ শতাংশ কর্মী বাড়ি থেকে কাজ করতে পছন্দ করেন, যার প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয় দেশটির বৈরী আবহাওয়া এবং দীর্ঘ যাতায়াত পথকে। এছাড়াও ব্রিটেন ও জার্মানিতে হाइब্রাইড মডেল অর্থাৎ সপ্তাহে কয়েকদিন অফিস এবং কয়েকদিন বাড়ি থেকে কাজের সংস্কৃতি দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। জার্মানিতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গবেষণা খাতের সংস্থাগুলো অফিস স্পেস কমিয়ে ডিজিটাল পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

ভারতের পিছিয়ে থাকার কারণ ও সম্ভাবনা

উন্নত বিশ্বের তুলনায় ভারতে বাড়ি থেকে কাজের হার এখনও ১০ শতাংশের নিচে। মূলত আইটি এবং কিছু বহুজাতিক সংস্থা ছাড়া ভারতের অন্যান্য ক্ষেত্র যেমন— উৎপাদন শিল্প, সরকারি দপ্তর এবং গতানুগতিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও প্রাচীন অফিস সংস্কৃতির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেট পরিষেবার আসাম বণ্টন, ছোট শহরগুলোতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সম্পদের অভাব এবং অনেক প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের পুরনো ধ্যানধারণা এই মডেল বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা।

তবে ক্রমবর্ধমান ট্রাফিক জ্যাম ও জ্বালানি খরচ কমানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সাম্প্রতিক আহ্বান এই পরিস্থিতিতে বদল আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জ্বালানি সাশ্রয়কে ‘দেশভক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করার ফলে কর্পোরেট মহলে নতুন করে হाइब্রাইড মডেল চালুর বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। যদি ভারতের বড় শহরগুলোতে কাজের এই নমনীয় ধারা সফলভাবে প্রয়োগ করা যায়, তবে তা কেবল কর্মীদের ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করবে না, বরং দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *