‘দক্ষিণ ভারত বঞ্চিত বোধ করবে’, সীমানা পুনর্নির্ধারণ ইস্যুতে বিজেপি নেতা আন্নামালাইকে পাল্টা শশী থারুরের

‘দক্ষিণ ভারত বঞ্চিত বোধ করবে’, সীমানা পুনর্নির্ধারণ ইস্যুতে বিজেপি নেতা আন্নামালাইকে পাল্টা শশী থারুরের

সান ফ্রান্সিসকোতে আয়োজিত ‘স্ট্যানফোর্ড ইন্ডিয়া কনফারেন্স’-এ ভারতের লোকসভা আসনের সীমানা নির্ধারণ বা পরিসীমন ইস্যুতে মুখোমুখি বিতর্কে জড়ালেন কংগ্রেস সংসদ সদস্য শশী থারুর এবং বিজেপি নেতা কে আন্নামালাই। ‘ইন্ডিয়া, দ্যাট ইজ ভারত: গ্রোথ, গভর্ন্যান্স অ্যান্ড আইডেন্টিটি’ শীর্ষক এই আলোচনায় উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই নেতার ভিন্নধর্মী অবস্থান ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

বঞ্চনার আশঙ্কায় দক্ষিণ ভারত

কংগ্রেস নেতা শশী থারুর শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যদি কেবলমাত্র জনসংখ্যার ভিত্তিতে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস করা হয়, তবে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো চরম রাজনৈতিক বঞ্চনার শিকার হতে পারে। তাঁর মতে, উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনেক বেশি হওয়ায় ভবিষ্যতে সেখানে সাংসদ সংখ্যাও বাড়বে। এর ফলে উত্তর ভারতীয় রাজ্যগুলো এককভাবে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ ভারতের ওপর হিন্দি ভাষা বা নির্দিষ্ট চিন্তাধারা চাপিয়ে দেওয়ার পথ প্রশস্ত করবে। থারুর আরও প্রস্তাব করেন যে, প্রশাসনিক সুবিধার জন্য উত্তরপ্রদেশের মতো বিশাল জনসংখ্যা অধ্যুষিত রাজ্যকে চার ভাগে বিভক্ত করা উচিত।

সমাধানের পথ খুঁজছে বিজেপি

বিজেপি নেতা কে আন্নামালাই থারুরের এই যুক্তির পাল্টা জবাবে জানান, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে এই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোর স্বাভাবিকভাবেই বেশি প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার কথা। আন্নামালাইয়ের দাবি, প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থায় তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলোর আসন সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় বৃদ্ধি পাবে। প্রতিটি রাজ্য যদি কেবল নিজেদের লাভ-ক্ষতির হিসাব করে, তবে জাতীয় স্বার্থে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার এমন একটি পথ খুঁজছে যেখানে কোনো রাজ্যের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে না।

রাজনৈতিক প্রভাব ও বর্তমান স্থিতি

নারী সংরক্ষণ বিল নিয়েও এই আলোচনায় বিতর্ক দানা বাঁধে। শশী থারুর দাবি করেন, পরিসীমন প্রক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা না করে বর্তমান লোকসভা কাঠামোতেই নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন নিশ্চিত করা উচিত। উল্লেখ্য, সম্প্রতি সংবিধানে সংশোধনী এনে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৬ করার এবং নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের একটি প্রস্তাব আনা হয়েছিল। তবে পরিসীমন নিয়ে বিরোধীদের আপত্তির কারণে সেই বিলটি এখনো ঝুলে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সীমানা নির্ধারণের এই সংঘাত ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *