তাইওয়ান সীমান্তে ড্রাগনের নিশ্বাস! ফের যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে ঘেরাও করল চীন

তাইওয়ান সীমান্তে ড্রাগনের নিশ্বাস! ফের যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে ঘেরাও করল চীন

তাইওয়ান প্রণালীতে আবারও বড় ধরনের সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে চীন। গত ২৪ ঘণ্টায় দ্বীপরাষ্ট্রটির চারপাশ ঘিরে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) যুদ্ধবিমান ও রণতরীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, সোমবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সাতটি সামরিক বিমান, পাঁচটি যুদ্ধজাহাজ এবং একটি সরকারি জাহাজ তাদের জলসীমার কাছে টহল দিয়েছে।

আকাশসীমা লঙ্ঘন ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা

তাইওয়ানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চীনের সাতটি বিমানের মধ্যে পাঁচটিই দুই অঞ্চলের মধ্যকার অনানুষ্ঠানিক সীমান্ত তথা ‘মিডিয়ান লাইন’ অতিক্রম করেছে। এই বিমানগুলো তাইওয়ানের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমের ‘এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোন’ (এডিআইজেড)-এ প্রবেশ করে। শুধু সোমবার নয়, গত পুরো সপ্তাহান্ত জুড়েই চীনের সামরিক চাপ অব্যাহত ছিল। শনিবার ও রবিবারও ডজনখানেক বিমান ও রণতরী একইভাবে তাইওয়ানের জল ও আকাশসীমার নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঢুকে পড়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।

সংঘাতের নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

তাইওয়ান ও চীনের এই বিরোধের শিকড় অনেক গভীরে। ১৯৪৯ সালে চীনের গৃহযুদ্ধের পর থেকে তাইওয়ান নিজেদের স্বতন্ত্র সরকার ও সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত একটি স্বাধীন সত্তা হিসেবে দাবি করে আসছে। তবে বেইজিং শুরু থেকেই একে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মনে করে। চীনের এই সাম্প্রতিক সামরিক মহড়া কেবল শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বের আকাঙ্ক্ষাকে দমন করার একটি কৌশলগত চাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এই ধারাবাহিক অনুপ্রবেশের ফলে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তাইওয়ানের জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, সেখানে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হলে বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তার মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আপাতত তাইওয়ানের সেনাবাহিনী উচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *