আবার কি ফিরছে ‘রাইটার্স’ যুগ? লালবাড়িতেই ফিরতে চায় বিজেপি সরকার!

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার অলিন্দে ফের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দপ্তর বা সচিবালয় বর্তমান ঠিকানা ‘নবান্ন’ থেকে সরিয়ে পুনরায় ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং বা ‘মহাকরণে’ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। দীর্ঘ ১৩ বছর পর নীল-সাদা আধুনিক ভবন ছেড়ে লাল রঙের এই ঐতিহ্যবাহী ইমারতে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড স্থানান্তরের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ঐতিহ্য ও ক্ষমতার পটভূমি
১৭৭৭ সালে ব্রিটিশ স্থপতি থমাস লিয়নের নকশায় ইস্ট ইন্ডিয়া কো ম্পা নির ‘রাইটার্স’ বা লিপিকাদের বসবাসের জন্য এই ভবনটি নির্মিত হয়েছিল। কালক্রমে এটি ব্রিটিশ ভারতের এবং পরবর্তীতে স্বাধীন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্ষমতার প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়। ফরাসি রেনেসাঁ এবং গ্রিক-রোমান স্থাপত্যশৈলীর মিশ্রণে তৈরি এই ভবনটি কেবল ইটের কাঠামো নয়, বরং আড়াইশো বছরের শাসনের প্রতীক। ১৯৩০ সালে বিনয়-বাদল-দীনেশের দুঃসাহসিক অভিযান এই ভবনটিকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গেও অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে দিয়েছে।
কেন এই স্থানান্তর এবং সম্ভাব্য প্রভাব
২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংস্কার কাজের কারণ দেখিয়ে সচিবালয়টি হাওড়ার নবান্নে সরিয়ে নিয়ে যান। দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার কাজ চলায় মহাকরণ কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়েছিল। এখন পুনরায় সেখানে ফেরার সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে:
- প্রশাসনিক সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ: বিশেষজ্ঞদের মতে, রাইটার্স বিল্ডিং মূলত শাসনের উদ্দেশ্যেই নির্মিত হয়েছিল, তাই প্রশাসনিক কাজের জন্য এর উপযোগিতা অনেক বেশি। তবে কলকাতার অন্যতম ব্যস্ততম এলাকায় সচিবালয় ফিরে এলে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
- ঐতিহ্য সংরক্ষণ: অনেক স্থপতি মনে করছেন, একটি ঐতিহাসিক ভবনকে কার্যকর প্রশাসনিক কাজে ব্যবহার করা হলে তার রক্ষণাবেক্ষণ আরও উন্নত হয়। এটি বিশ্বের কাছে বাংলার সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যের এক বলিষ্ঠ বার্তা দেবে।
- রাজনৈতিক গুরুত্ব: নবান্ন থেকে মহাকরণে প্রত্যাবর্তনকে অনেক বিশ্লেষক ক্ষমতার চিরাচরিত কেন্দ্রে ফিরে যাওয়ার প্রতীক হিসেবে দেখছেন। যদিও সংস্কার কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবকটি বিভাগ একসঙ্গে সরানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কলকাতা আবার তার পুরনো প্রশাসনিক জৌলুস ফিরে পাবে, যা একই সঙ্গে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন জনজীবনেও গভীর প্রভাব ফেলবে।