শপথ নিলেন শুভেন্দু, সৌজন্যের বার্তায় কুণাল থাকলেও ব্রাত্য নয়না!

শপথ নিলেন শুভেন্দু, সৌজন্যের বার্তায় কুণাল থাকলেও ব্রাত্য নয়না!

বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়ে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটেছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের এই ঐতিহাসিক পালাবদলের আবহে নজর কেড়েছে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। রাজনৈতিক বৈরিতা সরিয়ে রেখে প্রাক্তন ‘সহযোদ্ধা’ শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা জানালেও, সেই তালিকায় দলেরই এক নেত্রীর নাম বাদ পড়ায় শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

তীব্র আক্রমণের পর সৌজন্যের রাজনীতি

বিগত কয়েক বছরে শুভেন্দু অধিকারী ও কুণাল ঘোষের মধ্যকার সম্পর্ক ছিল আদায়-কাঁচকলায়। বিশেষ করে শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে আক্রমণ ও পালটা আক্রমণের মাত্রা ছাড়িয়েছিল সব সীমা। তবে সোমবার সকালে সুর বদল করেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক। শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে কুণাল লেখেন, ভোটার তালিকা বা গণনা নিয়ে দলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেও নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি শুভেন্দুকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তীব্র সংঘাতের পর এই ধরনের সৌজন্য বার্তা রাজ্যের সংসদীয় রাজনীতিতে এক ইতিবাচক ইঙ্গিত।

তালিকা থেকে বাদ নয়না: দানা বাঁধছে নতুন বিতর্ক

কুণাল ঘোষের এই অভিনন্দন বার্তা যতটা না সৌজন্যের কারণে আলোচনায়, তার চেয়ে বেশি চর্চিত হচ্ছে একটি বিশেষ নাম বাদ পড়ায়। কুণাল তাঁর পোস্টে বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, উপ-দলনেতা অসীমা পাত্র এবং বিরোধী পক্ষের মুখ্যসচেতক ফিরহাদ হাকিমকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেখানে নাম নেই তৃণমূলের অন্যতম ডেপুটি লিডার তথা সুদীপ-জায়া নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দেগেছিলেন কুণাল। পরবর্তীতে সুদীপবাবুর বাড়িতে চা-চক্রে যোগ দিয়ে মান-অভিমান মিটে যাওয়ার ইঙ্গিত দিলেও, সোমবারের ঘটনা প্রমাণ করল সেই তিক্ততা আজও বর্তমান। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা সত্ত্বেও নয়নার নাম এড়িয়ে যাওয়া তৃণমূলের অন্দরে ফাটল এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের পুরনো স্মৃতিকেই উসকে দিচ্ছে। নতুন সরকারের যাত্রালগ্নে এই ঠান্ডা লড়াই বিরোধী শিবিরে তৃণমূলের সংহতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *