“বাড়ির কাজ করুক মেয়েরা, পড়াশোনার দরকার নেই!” বিহারের শিক্ষামন্ত্রীর বয়ানে নিন্দার ঝড়

মেয়েদের লেখাপড়া করার প্রয়োজন নেই এবং তাদের বাড়ির কাজেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত— বিহারের শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারির এমন এক মন্তব্য ঘিরে বর্তমানে জাতীয় রাজনীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় বইছে। যেখানে নারী শিক্ষার প্রসারে সরকারি স্তরে নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে, সেখানে একজন শিক্ষামন্ত্রীর মুখে এমন রক্ষণশীল বার্তা জনমানসে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
বিতর্কিত মন্তব্য ও প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মিথিলেশ তিওয়ারি জানান, মেয়েদের বাইরে বেরিয়ে প্রতিবাদ করা বা জনসমাগমে থাকার প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, মেয়েরা বাড়িতে থেকে ঘরের কাজে সাহায্য করলেই ভালো। তিনি বলেন, “এত লেখাপড়া করার প্রয়োজন কী? আমাদের ঘরের মেয়েরা আমাদের শক্তি ও সমৃদ্ধির ভিত্তি। প্রধানমন্ত্রী যখন নারী শক্তি মণ্ডলের জন্য লড়ছেন, তখন মেয়েদের রাস্তায় নামার কী প্রয়োজন!” এমনকি শিক্ষার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি পালটা দাবি করেন যে, মেয়েরা তাদের অধিকার এমনিই পেয়ে যাবে।
সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ঢেউ
শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই সংবিধানের ২১এ অনুচ্ছেদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে লিঙ্গ নির্বিশেষে শিক্ষার অধিকারের সপক্ষে সওয়াল করেছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন শিক্ষামন্ত্রী হয়ে তিনি কীভাবে শিক্ষার গুরুত্বকে অস্বীকার করতে পারেন। তবে বিতর্কের মাঝে মন্ত্রীর অনুগামীরা দাবি করেছেন, তাঁর বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তিনি মূলত বলতে চেয়েছেন যে, বর্তমান সরকারের অধীনে মেয়েদের আর লড়াই করে শিক্ষা অর্জন করতে হবে না, কারণ সরকারই তাদের সব সুবিধা পৌঁছে দিচ্ছে।
প্রভাব ও সরকারি উদ্যোগের বৈপরীত্য
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের মন্তব্য নারী ক্ষমতায়নের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ বা ‘সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা’র মতো প্রকল্পগুলো যখন মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করছে, তখন উচ্চপদস্থ একজন জনপ্রতিনিধির এই অবস্থান জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে। বিশেষ করে কারিগরি ও উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে যেখানে ‘উড়ান’-এর মতো প্রকল্প কার্যকর রয়েছে, সেখানে এই মন্তব্য সরকারের মূল লক্ষ্যের সাথে সাংঘর্ষিক বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই ঘটনার ফলে রাজনৈতিক স্তরেও মন্ত্রীকে কোণঠাসা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।