টাকা নয়, এটিএম থেকে বেরোচ্ছে চিরুনি-কাঁচি! এটিএম বুথ এখন সেলুন, কাণ্ড দেখে তাজ্জব নেটপাড়া

টাকা নয়, এটিএম থেকে বেরোচ্ছে চিরুনি-কাঁচি! এটিএম বুথ এখন সেলুন, কাণ্ড দেখে তাজ্জব নেটপাড়া

ব্যাঙ্কের সাইনবোর্ড ঝোলানো, বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে ভেতরে আমূল বদলে গিয়েছে দৃশ্যপট। টাকা তোলার কার্ড হাতে বুথে ঢুকে গ্রাহকরা দেখছেন সেখানে এটিএম মেশিনের বদলে সাজানো রয়েছে আয়না, চেয়ার আর চুল কাটার সরঞ্জাম। বিহারের পাটনার দানাপুর এলাকায় স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার একটি প্রাক্তন এটিএম বুথকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি এমনই চাঞ্চল্যকর ও হাস্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

টাকা নয়, মিলছে চুল কাটার পরিষেবা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দানাপুর এলাকার ওই এটিএম বুথটির মেশিনটি বেশ কিছুদিন আগে বিকল হয়ে পড়েছিল। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সেখান থেকে এটিএম মেশিনটি সরিয়ে নেয়। তবে বুথের বাইরে ব্যাঙ্কের সাইনবোর্ডটি যথাস্থানেই থেকে যায়। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ওই ফাঁকা ঘরে এক যুবক আস্ত একটি সেলুন খুলে বসেছেন। বর্তমানে সেখানে হেয়ার ড্রায়ার, কাঁচি আর চিরুনি নিয়ে রমরমিয়ে চলছে চুল ও দাড়ি কাটার ব্যবসা।

বিভ্রান্তি ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

এটিএম বুথের মধ্যে সেলুন চলার এই খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল শুরু হয়েছে। যেহেতু বাইরে এখনও ব্যাঙ্কের নাম সম্বলিত বোর্ড রয়েছে, তাই অনেক পথচারী বা অপরিচিত ব্যক্তি টাকা তোলার আশায় ভেতরে ঢুকে হতবাক হয়ে যাচ্ছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ নন, বরং অনেকেই মজা পাচ্ছেন। অনেক গ্রাহক আবার ভুল করে ঢুকে পড়ার পর পরিস্থিতি দেখে হেসেই খুন হচ্ছেন।

পরিকাঠামোগত গাফিলতি ও প্রভাব

এই ঘটনার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে ব্যাঙ্কের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন নেটিজেনদের একাংশ। তাঁদের মতে, মেশিন সরিয়ে নেওয়ার পর সাইনবোর্ডটি না সরানোয় এই বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তবে অনেকে আবার যুবকের এই উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসাও করেছেন। যথাযথ নজরদারির অভাব এবং অব্যবহৃত বাণিজ্যিক জায়গার এমন বিকল্প ব্যবহার ভারতের ব্যাংকিং পরিকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে যেমন প্রশ্ন তুলেছে, তেমনই এটি একটি হাস্যকর উদাহরণ হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই দাবি তুলেছেন যে, হয় দ্রুত সাইনবোর্ডটি সরানো হোক অথবা বুথটিকে পুনরায় সচল করার ব্যবস্থা করা হোক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *