রাজ্যে এবার ‘আয়ুষ্মান ভারত’: পকেটে ৫ লক্ষের কবচ! কারা পাবেন এই সুবিধা? জানুন খুঁটিনাটি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হতে চলেছে কেন্দ্রের ফ্ল্যাগশিপ স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ বা প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (PM-JAY)। মূলত দেশের দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে চিকিৎসার বিপুল খরচ থেকে মুক্তি দিতেই এই উদ্যোগ। এই প্রকল্পের আওতায় তালিকাভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল থেকে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যাবে।
কারা থাকছেন এই সুবিধার আওতায়
আয়ুষ্মান ভারতের উপভোক্তা নির্বাচনের মূল ভিত্তি হলো ২০১১ সালের আর্থ-সামাজিক জাতিশুমারি (SECC)। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলভেদে এর মানদণ্ড কিছুটা ভিন্ন। গ্রামীণ এলাকায় কাঁচা বাড়িতে বসবাসকারী ভূমিহীন ও অভাবী পরিবারগুলো অগ্রাধিকার পায়। অন্যদিকে, শহরাঞ্চলে আয়ের উৎসের ওপর ভিত্তি করে হকার, দিনমজুর, রিকশাচালক, কুলি, সাফাই কর্মী, রাজমিস্ত্রি ও ছোট দোকানদারদের মতো নিম্ন আয়ের পেশার মানুষরা এই বিমার অন্তর্ভুক্ত হন। তবে এই প্রকল্পের সবথেকে ইতিবাচক দিক হলো, পরিবারের সদস্য সংখ্যা বা বয়সের ওপর কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই। শিশু থেকে প্রবীণ—পরিবারের সকলেই এই একটি কার্ডের মাধ্যমে কভার পাবেন।
সত্তরোর্ধ্ব নাগরিকদের জন্য বিশেষ উপহার
২০২৪ সালের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী দেশের প্রতিটি নাগরিক এই বিমার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। এক্ষেত্রে পরিবারের আর্থিক অবস্থা বা বার্ষিক আয় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। অর্থাৎ, উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রবীণ সদস্যরাও এই কার্ডের আবেদন করতে পারবেন। তবে যারা ইতিপূর্বে সরকারি স্বাস্থ্য বিমা (যেমন CGHS বা ECHS) ভোগ করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে যেকোনো একটি প্রকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি, যাদের ব্যক্তিগত বিমা বা ইএসআই (ESI) সুবিধা রয়েছে, তারাও চাইলে পৃথকভাবে আয়ুষ্মান ভারতের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা ও সম্ভাব্য প্রভাব
বর্তমানে দেশের প্রায় ১৩ কোটির বেশি পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ এর সুফল পাচ্ছেন। বাংলায় এই প্রকল্প চালু হওয়ার ফলে রাজ্যের সাধারণ মানুষ কেবল স্থানীয় স্তরে নয়, বরং দেশের ২৩ হাজারেরও বেশি তালিকাভুক্ত বড় বড় হাসপাতালে উন্নত ও নিখরচায় চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে জটিল অস্ত্রোপচার বা ব্যয়বহুল চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটি রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এক বড় ধরনের ভারসাম্য নিয়ে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ আয়ুষ্মান ভারতের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা স্থানীয় কমন সার্ভিস সেন্টারে (CSC) গিয়ে সহজেই নিজেদের নাম তালিকাভুক্ত আছে কি না, তা যাচাই করে নিতে পারবেন।