শহিদ পরিবারের দায়িত্ব নেবে সরকার, শুভেন্দুর ঘোষণায় স্বস্তির হাওয়া পুরুলিয়ায়

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পুরুলিয়ার ৬টি বিজেপি শহিদ পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। শপথগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন যে, রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানো রাজ্যের ৩২১ জন বিজেপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকের পরিবারের দায়িত্ব নেবে নতুন সরকার। এই তালিকায় পুরুলিয়া জেলার ত্রিলোচন মাহাতো ও দুলাল কুমারসহ মোট ৬টি শহিদ পরিবারের নাম রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় দীর্ঘ ৮ বছর ধরে বিচার ও সাহায্যের আশায় থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরেছে।
বিচার ও তদন্তের নতুন মোড়
২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের মধ্যবর্তী সময়ে পুরুলিয়ায় একের পর এক রাজনৈতিক খুনের ঘটনা রাজ্যজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। বিশেষ করে বলরামপুরের ত্রিলোচন মাহাতো ও দুলাল কুমারের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। দীর্ঘকাল পেরিয়ে গেলেও এই পরিবারগুলো বিচারের আশায় প্রহর গুনছিল। এবার নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই ত্রিলোচন ও দুলাল কুমার খুনের মামলা পুনরায় চালুর (রি-ওপেন) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছেন, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে।
প্রান্তিক পরিবারগুলোতে খুশির জোয়ার
পুরুলিয়ার এই শহিদ পরিবারগুলোর অধিকাংশই অতি দরিদ্র ও প্রান্তিক। দিনমজুরি, চাষাবাদ বা ছোট মুদি দোকানের আয়ে চলত তাঁদের সংসার। উপার্জনক্ষম সদস্যদের হারিয়ে পরিবারগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়েছিল। ত্রিলোচন মাহাতোর বাবা ও দুলাল কুমারের স্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, এত বছর পর তাঁরা যেন নতুন করে বেঁচে থাকার রসদ খুঁজে পেলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শহিদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে সরকার মানবিক মুখ তুলে ধরার পাশাপাশি তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধির চেষ্টা করল। আগামী দিনে প্রশাসনিক সহায়তায় এই পরিবারগুলোর সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের লক্ষ্য।