স্বামী ভেবে বছরের পর বছর সংসার, আসল সত্যি জানতেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল স্ত্রীর!

মধ্যপ্রদেশের ভোপালে একটি চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। দীর্ঘ সাত বছর আগে আইনি বিচ্ছেদ হয়ে গেলেও সেই সত্য গোপন রেখে এক নারীর সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো আচরণ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ভুক্তভোগী নারী নতুন করে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করতে আদালতে গেলে পুরো বিষয়টি জানাজানি হয়।
জালিয়াতির মাধ্যমে গোপন বিচ্ছেদ
২০১১ সালে ভোপালের এক ব্যাংক কর্মকর্তার সাথে বুলন্দশহরের বাসিন্দা জনৈক প্রকৌশলীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা মুম্বাইয়ে বসবাস শুরু করেন। পারিবারিক কলহের জেরে একপর্যায়ে ওই নারী ভোপালে তার বাপের বাড়িতে চলে আসেন। অভিযোগ উঠেছে, ২০১৯ সালে অভিযুক্ত ব্যক্তি জাল নথিপত্র তৈরি করে স্ত্রীর অগোচরেই আদালত থেকে বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি হাসিল করেন। ভুক্তভোগী নারী দীর্ঘ সময় এই আইনি বিচ্ছেদের কথা জানতেনই না।
প্রতারণা ও লালসার শিকার
বিচ্ছেদ সম্পন্ন হওয়ার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তি নিয়মিত ভোপালে এসে ওই নারীর সঙ্গে দেখা করতেন। নিজেকে স্বামী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কও বজায় রাখেন। সম্প্রতি স্বামীর দুর্ব্যবহার সহ্য করতে না পেরে ওই নারী আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হন। তার আইনজীবী যখন অভিযুক্তের কাছে নোটিশ পাঠান, তখন জানা যায় যে সাত বছর আগেই তাদের সম্পর্ক আইনিভাবে শেষ হয়ে গেছে।
আইনি ব্যবস্থা ও প্রভাব
এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়া ওই নারী ভোপালের মহিলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযুক্ত প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং জোরপূর্বক শারীরিক হেনস্থার মামলা রুজু করেছে। এই ঘটনাটি আইনি প্রক্রিয়ার দুর্বলতা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে নথিপত্র জালিয়াতির এক ভয়াবহ উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।