বিপুল ঋণের সুযোগ ও হাতেকলমে প্রশিক্ষণ, রাজ্যে শুরু হলো প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনার পথচলা

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রতিশ্রুতি পূরণে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরই রাজ্যে কার্যকর হতে শুরু করেছে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় জনমুখী প্রকল্প। এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা’। মূলত স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং হস্তশিল্পীদের পেশাদার বিকাশের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রামীণ ও শহরতলি এলাকার ক্ষুদ্র কারিগরদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশিক্ষণ ও নগদ আর্থিক সহায়তা
প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনার আওতায় শিল্পীদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এখানে আবেদনকারীরা পাঁচ থেকে সাত দিনের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনে ১৫ দিনের উন্নত প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে প্রশিক্ষণ চলাকালীন প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে স্টাইপেন্ড প্রদান করা হবে। এছাড়া আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার জন্য প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকার ই-ভাউচার দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে মিলবে সরকারি শংসাপত্র ও বিশেষ পরিচয়পত্র, যা তাঁদের কাজের পেশাদার স্বীকৃতি দেবে।
সাশ্রয়ী সুদে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ
নতুন ব্যবসা শুরু বা বর্তমান কাজের পরিধি বাড়ানোর জন্য এই প্রকল্পের অধীনে মোট ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রথম দফায় ১ লক্ষ টাকা এবং ব্যবসায়িক উন্নতির নিরিখে দ্বিতীয় দফায় ২ লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়া হবে। অত্যন্ত নামমাত্র ৫ শতাংশ সুদে এই ঋণ পাবেন কারিগররা। কামার, কুমোর, স্বর্ণকার, মুচি ও মালাকারসহ মোট ১৮ ধরনের পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এই সুবিধার আওতায় পড়বেন। তবে একটি পরিবার থেকে কেবল একজনই আবেদন করতে পারবেন এবং আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ন্যূনতম ১৮ বছর।
আবেদন পদ্ধতি ও শর্তাবলী
ইচ্ছুক প্রার্থীরা অনলাইন ও অফলাইন—উভয় পদ্ধতিতেই আবেদন জানাতে পারবেন। অনলাইনের ক্ষেত্রে সরকারি পোর্টালে (pmvishwakarma.gov.in) গিয়ে আধার কার্ডের মাধ্যমে কেওয়াইসি সম্পন্ন করে ফরম পূরণ করতে হবে। অন্যদিকে, নিকটস্থ কমন সার্ভিস সেন্টারে (CSC) গিয়ে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশনের মাধ্যমেও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব। আবেদনের জন্য আধার কার্ড, রেশন কার্ড ও সচল মোবাইল নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক। সরকারি চাকুরিজীবী বা বিগত পাঁচ বছরে সমজাতীয় কোনো ঋণ গ্রহণকারীরা এই সুবিধার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।