সাংসদ পুত্রের নিশানায় নিজের দল, সিপিএমের সাহসকে কুর্নিশ জানিয়ে শোরগোল

সাংসদ পুত্রের নিশানায় নিজের দল, সিপিএমের সাহসকে কুর্নিশ জানিয়ে শোরগোল

রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর এবার খোদ দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। তৃণমূল সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদারের পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। নিজের দলের নিষ্ক্রিয়তাকে কটাক্ষ করে তিনি সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে প্রকাশ্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন, যা শাসক শিবিরের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এক বনাম আশির লড়াই ও তৃণমূলের নীরবতা

বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেছেন যে, বিধানসভায় মাত্র একজন বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও সিপিএম রাজপথে নেমে প্রতিবাদ ও মিছিল সংগঠিত করছে। এর বিপরীতে তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও তাঁদের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। মহম্মদ সেলিমকে উদ্দেশ্য করে তিনি লিখেছেন, “ধন্যবাদ সেলিমদা। সাহস তো দেখালেন। কাপুরুষের মতো পালিয়ে যাননি।” উল্লেখ্য, দীর্ঘ খরা কাটিয়ে এবার মুর্শিদাবাদের ডোমকল আসনে জয়ী হয়ে বিধানসভায় প্রতিনিধিত্ব ফিরে পেয়েছে বামেরা। সেই একজন বিধায়ককে নিয়েই সিপিএমের আন্দোলনের মানসিকতাকে বৈদ্যনাথ সাহসিকতার প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

অন্তর্দ্বন্দ্ব ও নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের সুর আরও জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রণকৌশল এবং ভোট কুশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর ভূমিকা নিয়ে দলের যুব নেতৃত্ব ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই দলবিরোধী মন্তব্যের দায়ে পাঁচজনকে সাসপেন্ড করা হলেও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। দলের এই কঠিন সময়ে জনভিত্তি হারিয়ে অনেক চেনা মুখই এখন নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব।

বিশ্লেষকদের মতে, একজন বর্ষীয়ান নেত্রীর পুত্রের এই ধরনের মন্তব্য দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং সমন্বয়হীনতাকেই প্রকট করে তুলেছে। একদিকে যখন বামেরা শূন্য থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন তৃণমূলের বিশাল বিধায়ক বাহিনী কেন নিষ্ক্রিয়, সেই প্রশ্ন এখন খোদ দলের অন্দর থেকেই উঠতে শুরু করেছে। এই ঘটনা তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল যেমন ধাক্কা দিয়েছে, তেমনই বিরোধীদের হাতে নতুন রাজনৈতিক অস্ত্র তুলে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *