৯ জুন কি উত্তাল হবে PoK? পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুদ্ধের হুঁশিয়ারি সাধারণ মানুষের!

৯ জুন কি উত্তাল হবে PoK? পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুদ্ধের হুঁশিয়ারি সাধারণ মানুষের!

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) শাহবাজ শরিফ সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ এখন চরম সীমায়। আগামী ৯ জুন পুরো অঞ্চলজুড়ে সর্বাত্মক বনধ ও বড় ধরনের আন্দোলনের ডাক দিয়েছে জয়েন্ট অওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)। সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ৩১ মে-র মধ্যে তাদের দাবিদাওয়া পূরণ না হলে চাকা বন্ধ, বাজার বনধ এবং গণবিক্ষোভের মাধ্যমে পুরো পিওকে অচল করে দেওয়া হবে। জেএএসি নেতাদের অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করছে না এবং আলোচনার নামে কেবল সময়ক্ষেপণ করছে।

আন্দোলনের নেপথ্যে বঞ্চনা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা

বিক্ষোভকারীদের প্রধান অভিযোগ হলো, সাংবিধানিক ও নির্বাচনী সংস্কারের বিষয়ে পাকিস্তান সরকার একাধিকবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মানবাধিকার কর্মী আমজাদ আইয়ুব মির্জার মতে, গত দুই বছর ধরে প্রশাসন কেবল আলোচনার নাটক করে আন্দোলনকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ১২টি পরিযায়ী আসন বাতিল করার দাবিটি দীর্ঘদিনের, কারণ এই আসনগুলোর প্রতিনিধিরা ওই অঞ্চলে না থেকেও নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করেন। এছাড়া অতীতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে প্রশাসনের হিংসাত্মক দমননীতি ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনা জনরোষকে আরও উসকে দিয়েছে।

জীবনযাত্রার সংকট ও সম্ভাব্য প্রভাব

পিওকে-র সাধারণ মানুষ বর্তমানে তীব্র মুদ্রাস্ফীতি, দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং এবং মৌলিক পরিষেবার অভাবে দিশেহারা। আড়াই হাজার টাকার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ছয় হাজার টাকায়, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে স্কুলের বেতন। এই অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক অধিকারহীনতা থেকে মুক্তির পথ হিসেবেই ৯ জুনের লং মার্চকে দেখছেন স্থানীয়রা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার যদি দমনের পথ বেছে নেয়, তবে এই বিক্ষোভ একটি অনিয়ন্ত্রিত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিতে পারে, যা পুরো পাকিস্তান প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আগামী দিনগুলোতে আন্দোলনকারী ও প্রশাসনের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *