পকেট বাঁচাতে সেকেন্ড হ্যান্ড AC? কেনার আগে এই ভুল করলেই বড় ক্ষতি!

তীব্র গরমে নাভিশ্বাস ওঠা জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি পেতে অনেকেই এখন শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। তবে মধ্যবিত্তের বাজেটে নতুন এসির চড়া দাম না মেলায় বড় একটি অংশ ঝুঁকছেন সেকেন্ড হ্যান্ড বা রিফার্বিশড এসির দিকে। কম দামে ঘর ঠান্ডা করার এই প্রবণতা যেমন জনপ্রিয় হচ্ছে, তেমনি অসাবধানতার কারণে বাড়ছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
যান্ত্রিক ত্রুটি ও বিস্ফোরণের ঝুঁকি
পুরনো এসির যন্ত্রাংশ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কার্যক্ষমতা হারায়। বিশেষ করে এসির প্রাণভোমরা হিসেবে পরিচিত কম্প্রেসর দুর্বল হয়ে পড়লে তা দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে পুরনো এসিতে ভুল পদ্ধতিতে গ্যাস রিফিল করা হয় অথবা খরচ বাঁচাতে নিম্নমানের রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করা হয়। এর ফলে যন্ত্রের অভ্যন্তরীণ চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এছাড়া পুরনো এসির ভেতরের বৈদ্যুতিক তার আলগা হয়ে থাকা বা নিম্নমানের প্লাগ ব্যবহারের ফলে শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কাও তৈরি হয়।
বিপদের আগাম সঙ্কেত ও প্রতিকার
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরনো এসিতে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। ইউনিট থেকে পোড়া গন্ধ আসা, অস্বাভাবিক জোরালো শব্দ, ঘর ঠান্ডা না হয়ে এসির বডি অতিরিক্ত গরম হওয়া কিংবা ঘন ঘন এমসিবি ট্রিপ করা বিপদের লক্ষণ। এছাড়া গ্যাস লিকের কারণে হিসহিস শব্দ কিংবা অদ্ভুত গন্ধ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সুরক্ষায় করণীয়
বিপদ এড়াতে সেকেন্ড হ্যান্ড এসি কেনার পর দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে সম্পূর্ণ পরীক্ষা ও সার্ভিসিং করানো আবশ্যক। সস্তার মিস্ত্রি এড়িয়ে জেনুইন পার্টস এবং ভোল্টেজের ওঠানামা সামলাতে ভালো মানের স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া দীর্ঘ সময় একটানা এসি না চালিয়ে যন্ত্রটিকে বিশ্রাম দেওয়া এবং নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার রাখলে যান্ত্রিক চাপ অনেকটাই কমে। সামান্য অর্থ সাশ্রয় করতে গিয়ে জীবনকে ঝুঁকিতে না ফেলে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সতর্কতা অবলম্বনই এই গরমে নিরাপদ থাকার প্রধান উপায়।