ভিআইপি কালচারে কোপ! তেলের খরচ কমাতে বাসে-ট্রেনে ঘুরবেন রাজ্যপাল, ছোট হচ্ছে যোগী-মোহনের কনভয়

ভিআইপি কালচারে কোপ! তেলের খরচ কমাতে বাসে-ট্রেনে ঘুরবেন রাজ্যপাল, ছোট হচ্ছে যোগী-মোহনের কনভয়

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাট সরকার। পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার কমাতে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে আমলারা নিজেদের সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা বহরে বড় ধরনের কাটছাঁট শুরু করেছেন। সরকারি কর্মকাণ্ডে বিলাসিতা কমিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভিআইপি বহরে কাটছাঁট ও জনপরিবহনে গুরুত্ব

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিজের এবং মন্ত্রীসভার সদস্যদের নিরাপত্তা বহর বা ফ্লিট থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ শতাংশ গাড়ি কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। অপ্রয়োজনীয় গাড়ি সরিয়ে ফেলার পাশাপাশি তিনি জনপ্রতিনিধিদের সপ্তাহে অন্তত একদিন পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। একইভাবে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন তাঁর নিরাপত্তা বহরের গাড়ির সংখ্যা ১৩টি থেকে কমিয়ে ৮টিতে নামিয়ে এনেছেন। দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা বিভাগীয় কাজে গাড়ির সংখ্যা সীমিত করার নির্দেশ জারি করেছেন। এছাড়া, গুজরাটের রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত ঘোষণা করেছেন যে, জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো সরকারি সফরের জন্য বিমান বা হেলিকপ্টার ব্যবহার করবেন না; বরং ট্রেন ও সাধারণ বাসেই যাতায়াত করবেন।

কর্মসংস্কৃতিতে বদল ও জ্বালানি সাশ্রয়ের কৌশল

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রাজ্যগুলো এখন ডিজিটাল পরিকাঠামোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। উত্তরপ্রদেশ সরকার সরকারি সভা, সেমিনার ও কনফারেন্স ভার্চুয়াল মাধ্যমে করার ওপর জোর দিয়েছে এবং ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা ঘরে বসে কাজ করার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করছে। এছাড়া সপ্তাহে একদিন ‘নো ভেহিকল ডে’ পালন, কার-পুলিং এবং সাইকেল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি ভবনের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেও রাত ১০টার পর সাজসজ্জার আলোকসজ্জা কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এই কৃচ্ছ্রসাধন নীতি সাধারণ জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা এবং জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে এই ‘আর্থিক আত্মরক্ষা’ অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে দেশীয় পর্যটন এবং ডেস্টিনেশন ওয়েডিং-এর মতো বিষয়গুলোকে উৎসাহিত করে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে। এই সম্মিলিত পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন সরকারি ব্যয় কমবে, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ রোধ ও টেকসই জীবনযাত্রার পথে দেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *