‘দেশদ্রোহী মিডিয়া!’ আমেরিকার সংবাদমাধ্যমের ওপর চরম চটলেন ট্রাম্প, কিন্তু কেন?

‘দেশদ্রোহী মিডিয়া!’ আমেরিকার সংবাদমাধ্যমের ওপর চরম চটলেন ট্রাম্প, কিন্তু কেন?

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একাংশের ওপর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাদের কর্মকাণ্ডকে ‘দেশদ্রোহিতা’র শামিল বলে অভিহিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন মিডিয়া যুদ্ধের ভুল সংবাদ পরিবেশন করে ইরানকে মিথ্যা আশা দিচ্ছে, যা আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।

মিডিয়ার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ

ট্রাম্পের দাবি, কিছু সংবাদমাধ্যম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেখাচ্ছে যে ইরানি হামলায় মার্কিন সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ধরনের রিপোর্টকে ‘ভুয়া খবর’ (ফেক নিউজ) হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, “যখন ফেক নিউজ প্রচার করে যে আমাদের শত্রু ইরান সামরিকভাবে ভালো অবস্থানে আছে, তখন তারা আসলে শত্রুকে সাহায্য ও উৎসাহিত করছে। এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং এক ধরনের দেশদ্রোহিতা।” তিনি আরও যোগ করেন, এই ধরনের প্রচারণার ফলে ইরান এমন এক আশার আলো দেখছে, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

ইরানের সামরিক শক্তি নিয়ে ট্রাম্পের দাবি

পাল্টা বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, মার্কিন ও ইসরায়েলি অভিযানে ইরানের সামরিক কাঠামো বর্তমানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, “ইরানের নৌবাহিনীর ১৫৯টি জাহাজের প্রতিটি এখন সমুদ্রের তলদেশে। তাদের বিমানবাহিনী এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে।” দেশটিকে একটি ‘অর্থনৈতিক ধ্বংসস্তূপ’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের শীর্ষ নেতারাও এখন আর লড়াই করার মতো অবস্থায় নেই।

সংঘাতের কারণ ও প্রভাব

মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে মার্কিন মিডিয়ার কিছু অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পরই ট্রাম্প এমন আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্টের এই কড়া অবস্থান আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে চাপে রাখার একটি কৌশল হতে পারে, তবে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে প্রশাসনের এই সংঘাত আন্তর্জাতিক মহলে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *