জ্বালানি সাশ্রয়ে বিজেপির ভিআইপি কালচারে কোপ, ত্যাগের রাজনীতিতে এবার মন্ত্রীরাই নামছেন মেট্রোয়

বিশ্বজুড়ে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট তীব্র জ্বালানি ও আর্থিক সংকট মোকাবিলায় এবার নিজেদের ‘ভিআইপি’ জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সাধারণ মানুষকে সংযত হওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পর যখন মন্ত্রীদের বিলাসবহুল কনভয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, ঠিক তখনই পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে কৃচ্ছ্রসাধনের পথে হাঁটল শাসক দল। খোদ প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা এখন বিলাসবহুল গাড়ির বহর কমিয়ে সাধারণ গণপরিবহন ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন।
বুধবার সকালে দিল্লির রাজনীতিতে এক বিরল মুহূর্ত তৈরি হয়, যখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কপিল মিশ্র এবং রামদাস আঠওয়ালে প্রোটোকল ভেঙে মেট্রোয় চড়ে দপ্তরে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাঁর নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা এক ধাক্কায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কনভয় ১১টি থেকে কমিয়ে ৫টি গাড়িতে নামিয়ে আনা হয়েছে। প্রশাসনের এই বার্তার মূল লক্ষ্য হলো—সংকটের সময় জনগণের পাশে থেকে ত্যাগের উদাহরণ সৃষ্টি করা।
কনভয়ে কাটছাঁট ও বিদেশ সফর বাতিল
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতেও কৃচ্ছ্রসাধনের এই হাওয়া প্রবল। মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে কড়া দাওয়াই প্রয়োগ করা হয়েছে। দেবেন্দ্র ফড়নবিশ সরকার সরকারি বিমানের যথেচ্ছ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এমনকি সাংস্কৃতিক মন্ত্রী আশিস শেলার তাঁর কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল সফর এবং পর্যটন মন্ত্রী শম্ভুরাজ দেশাই তাঁর পারিবারিক ইউরোপ সফর বাতিল করেছেন। ২২ জন বিধায়কের জাপান যাওয়ার কর্মসূচিও স্থগিত করা হয়েছে। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল এখন মাত্র ৩টি গাড়ির ছোট কনভয় ব্যবহার করছেন এবং রাজ্যপাল ঘোষণা করেছেন যে তিনি হেলিকপ্টার ছেড়ে ট্রেন বা বাসে যাতায়াত করবেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও তাঁর মন্ত্রী ও আমলাদের কনভয় অর্ধেক করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।
সংকটের নেপথ্যে ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে গভীর ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। ভারত যেহেতু তার চাহিদার ৮৫ শতাংশ তেল আমদানি করে, তাই এই সংকট সরাসরি অর্থনীতিতে আঘাত হানছে। প্রতিবেশী দেশগুলো যখন রেশনিং ও ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করেছে, তখন প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশবাসীকে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়তে থাকা ক্ষোভ প্রশমিত করতেই বিজেপি নেতৃত্ব এই ‘ভিআইপি অপটিক্স’ বা জাঁকজমক ত্যাগের কৌশল নিয়েছে। সরকারি এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন জ্বালানি ব্যয় সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে প্রশাসনিক স্তরে জবাবদিহিতার নতুন নজির স্থাপিত হতে পারে।