বিধানসভায় নতুন সমীকরণ, ‘মুখ্যমন্ত্রী’ শুভেন্দু অধিকারীর দরজায় একের পর এক তৃণমূল বিধায়ক!

বাংলার সংসদীয় রাজনীতিতে বুধবার সূচিত হলো এক নয়া অধ্যায়। ১৮তম বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার সোপানে পা রাখলেন ভবানীপুরের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বিধানসভা চত্বরে পৌঁছানোর পর এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়। নিজের কনভয় থেকে নেমে মূল ভবনের প্রবেশদ্বারে নতজানু হয়ে প্রণাম করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর তাঁকে প্রথাগত ‘গার্ড অফ অনার’ প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়।
শপথ গ্রহণ ও প্রশাসনিক তৎপরতা
বেলা ঠিক ১১টা ৪ মিনিটে প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের উপস্থিতিতে বিধায়ক হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রীর শপথের পর একে একে শপথ নেন মন্ত্রিসভার সদস্য অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু, নিশীথ প্রামাণিক ও অগ্নিমিত্রা পাল। দুই দিনব্যাপী এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা ও সাজ সাজ রব ছিল পুরো বিধানসভা এলাকা জুড়ে।
রাজনৈতিক সৌজন্যের নতুন সমীকরণ
এদিনের অধিবেশনে সবথেকে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর কক্ষে তৃণমূল বিধায়কদের উপস্থিতি। শুভেন্দু অধিকারী নিজের জন্য বরাদ্দ কক্ষে পুজো দেওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত হন তৃণমূল বিধায়ক নিয়ামত শেখ, আখরুজ্জামান এবং ইমানি বিশ্বাস। শাসক ও বিরোধী শিবিরের দীর্ঘদিনের তিক্ততা সরিয়ে বিধানসভার অন্দরে এমন সৌজন্য বিনিময় রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য এক বিশেষ বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রভাব
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর এই প্রথম নবনির্বাচিত বিধায়করা এক ছাদের নিচে সমবেত হলেন। নবান্নে দায়িত্বভার গ্রহণের পর বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারীর এই সরব উপস্থিতি তাঁর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একইসঙ্গে বিরোধীদের সঙ্গে তাঁর এই প্রাথমিক সৌজন্য বিনিময় আগামী দিনের সংসদীয় কার্যক্রমে সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন সরকারের এই পথচলা বাংলার প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি স্থিতিশীল ও নতুন দিশা তৈরির লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।