জ্বালানি সাশ্রয়ে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের কনভয় ছোট করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

জ্বালানি সাশ্রয়ে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের কনভয় ছোট করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বড়সড় পদক্ষেপ নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাঁচাতে এবং জ্বালানি খরচ কমাতে তিনি নিজের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত কনভয়ের বহর ৫০ শতাংশ কমিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে সরকারি কাজে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের ফলে স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (এসপিজি) ইতিমধ্যেই তাঁর কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা হ্রাস করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

নিরাপত্তা বজায় রেখেই ব্যয়সংকোচ

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, নিরাপত্তার প্রোটোকলে কোনো আপস না করেই অতিরিক্ত যানবাহন সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। সম্প্রতি গুজরাত ও আসাম সফরকালে তাঁর এই ছোট কনভয়ের প্রতিফলন দেখা গেছে। ভদোদরা এবং গুয়াহাটিতে প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের সময় আগের তুলনায় অনেক কম গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যয়ের লাগাম টানতে প্রধানমন্ত্রী নতুন কোনো গাড়ি না কেনারও নির্দেশ দিয়েছেন। মূলত দেশের নাগরিকদের ব্যয়সংকোচের আহ্বান জানানোর পর প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই উদ্যোগ নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

দেশজুড়ে পড়ছে ইতিবাচক প্রভাব

প্রধানমন্ত্রীর এই সাশ্রয়ী নীতি এখন অনুসরণ করতে শুরু করেছে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয় এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো। মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীরাও ইতিমধ্যে তাঁদের কনভয় ছোট করার নির্দেশ দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সিআর পাটিলও তাঁর এসকর্ট গাড়ি ব্যবহার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকারের লক্ষ্য হলো, পশ্চিম এশিয়া সংকটের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা।

নাগরিকদের প্রতি বিশেষ বার্তা

হায়দরাবাদের এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশের জনগণকে পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে মেট্রো, কার-পুলিং কিংবা বৈদ্যুতিক যান ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষায় তিনি এক বছরের জন্য সোনা কেনা এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানান। এছাড়া ভোজ্য তেলের ব্যবহার হ্রাস ও স্বদেশী পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে ভারতকে আত্মনির্ভর করে তোলার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা মোকাবিলা করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *