বেজিংয়ে ট্রাম্প-জিনপিং মুখোমুখি! সঙ্গী মাস্ক, ইরান যুদ্ধের আবহে কাঁপছে বিশ্ব রাজনীতি

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে চিনে পৌঁছলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার বেজিং বিমানবন্দরে নামতেই লাল গালিচা অভ্যর্থনা ও সামরিক সম্মানে ভূষিত করা হয় তাকে। তিন দিনের এই হাই-প্রোফাইল সফরে ট্রাম্পের সঙ্গী হয়েছেন এলন মাস্ক এবং জেনসেন হুয়াংয়ের মতো প্রভাবশালী মার্কিন ধনকুবেররা। ইরান সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি যখন টালমাটাল, তখন দুই মহাশক্তির এই মুখোমুখি বৈঠককে ভূ-রাজনীতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাণিজ্য ও প্রযুক্তিতে নতুন সমীকরণ
ট্রাম্পের এই সফরের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্য, এলন মাস্ক ও জেনসেন হুয়াংয়ের মতো পুঁজিপতিদের উপস্থিতিতে চিনের সঙ্গে বাণিজ্যিক বিরোধ কমিয়ে সাপ্লাই চেইনকে পুনরায় সচল করা। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাজারে আমেরিকার আধিপত্য বজায় রাখতে বেজিংয়ের সঙ্গে একটি কৌশলগত সমঝোতায় পৌঁছাতে চান ট্রাম্প।
ইরান সংঘাত ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব
বৃহস্পতিবার সকালে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ইরানের ওপর চিনের প্রভাব নিয়ে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারের অস্থিরতা কমাতে ‘ইরান-মিত্র’ হিসেবে পরিচিত চিনের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৩ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত চলা এই সফরে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত থামানোর কোনো সূত্র বের হয়ে আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক মহল। মূলত যুদ্ধের উত্তাপ কমিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিকে রক্ষা করাই এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।