ট্রাম্পের চিন সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনা, বাণিজ্য ও বিরল খনিজ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার সম্ভাবনা

দীর্ঘ নয় বছরের ব্যবধান কাটিয়ে তিন দিনের সরকারি সফরে বেজিং পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান চিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যান জ়েং, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নমনীয়তার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। মূলত বাণিজ্য সংঘাত নিরসন, বিরল খনিজ পদার্থের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতিতে ইরানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যেই ট্রাম্পের এই হাই-ভোল্টেজ সফর।
বাণিজ্যিক সমাধান ও বিরল খনিজের আধিপত্য
ট্রাম্পের এই সফরে অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য। গত কয়েক বছর ধরে চলা শুল্ক যুদ্ধের পর দুই দেশই এখন একটি স্থায়ী সমাধানসূত্রের খোঁজে রয়েছে। ট্রাম্প চাইছেন সয়াবিন, বিমানের যন্ত্রাংশ ও মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর জন্য চিনা বাজারের দরজা আরও প্রশস্ত করতে। অন্যদিকে, ইলেকট্রিক গাড়ি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য অপরিহার্য ‘বিরল খনিজ’ (Rare Earth Minerals) রফতানির ওপর চিনের সাম্প্রতিক কড়াকড়ি শিথিল করার বিষয়েও দর কষাকষি হতে পারে। এই খনিজ সম্পদের বাজারে চিনের একচ্ছত্র আধিপত্য আমেরিকার প্রযুক্তি ও সামরিক খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরান সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ
পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরান প্রসঙ্গ এই বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আমেরিকার অভিযোগ, তেহরানের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি কিনে চিন পরোক্ষভাবে ইরানকে মদত দিচ্ছে। হরমুজ় প্রণালীতে শান্তি বজায় রাখা এবং ইরান-চুক্তির বিষয়ে চিনের সহযোগিতা চাইতে পারেন ট্রাম্প। এছাড়া তাইওয়ানকে আমেরিকার অস্ত্র সরবরাহ এবং কৃত্রিম মেধা বা এআই (AI) প্রযুক্তির বিশ্ববাজার দখল নিয়েও দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে সংবেদনশীল আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সফরের ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনে বিশ্ব অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি ও দুই মহাশক্তির পারস্পরিক সম্পর্কের রসায়ন।