পুতিনের ধাঁচে চরম সতর্কতা ট্রাম্পের চীন সফরে, ফিরিয়ে নেবেন নিজের মলমূত্রও!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে বেজিং। দুই দেশের বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক টানাপড়েনের আবহে এই সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে আলোচনার বিষয়বস্তুর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে ট্রাম্পের অবিশ্বাস্য নিরাপত্তা প্রোটোকল নিয়ে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মতোই ট্রাম্পও তাঁর চীন সফরে নিজের মলমূত্র থেকে শুরু করে রক্তের নমুনা—সবই কঠোর গোপনীয়তায় সঙ্গে করে দেশে ফিরিয়ে নেবেন বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তার ‘চলমান দুর্গ’ ও কঠোর গোপনীয়তা
মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য তিন মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে চার প্রধান সংস্থার প্রতিনিধি দল। ট্রাম্পের সফরের জন্য বিশেষভাবে তৈরি তাঁর গাড়ি ‘দ্য বিস্ট’ এবং নিজস্ব হেলিকপ্টার ইতিমধ্যেই বেজিংয়ে পৌঁছেছে। বুলেটপ্রুফ ও বিস্ফোরণ-প্রতিরোধী এই গাড়িতে প্রেসিডেন্টের জরুরি প্রয়োজনে তাঁরই গ্রুপের রক্ত মজুত রাখা হয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, কোনো বিদেশি শক্তি যাতে প্রেসিডেন্টের ডিএনএ (DNA) নমুনা সংগ্রহ করে তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য না পায়, তা নিশ্চিত করতেই মলমূত্র ত্যাগের ক্ষেত্রে এই বিশেষ প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়। এমনকি ট্রাম্প যে হোটেলে থাকছেন, সেখানকার বাথরুম থেকে শুরু করে জানালা—সবই সিক্রেট সার্ভিসের কড়া নজরদারিতে রয়েছে।
মানসিক হাসপাতাল পরিদর্শন ও এয়ার ফোর্স ওয়ানের সতর্কতা
নিরাপত্তার খাতিরে বেজিংয়ের স্থানীয় মানসিক হাসপাতালগুলো থেকে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া রোগীদের তথ্যও যাচাই করেছে মার্কিন অগ্রিম সমীক্ষা দল। ১৯৮১ সালে রিগানকে হত্যার চেষ্টার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতেই এই সতর্কতা। এছাড়া ট্রাম্পের বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানবন্দরের টার্মিনালে পার্ক না করে সরাসরি রানওয়েতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে মুহূর্তের মধ্যে উড্ডয়ন করা সম্ভব হয়। আজ বেজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের মেগা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, ইরান যুদ্ধ এবং তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার পাশাপাশি দুই দেশের সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই মূল লক্ষ্য হবে বলে মনে করা হচ্ছে।