তিলজলার অবৈধ কারখানায় শুভেন্দুর বুলডোজার অভিযান
তিলজলার চামড়ার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও দুই শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিলজলায় পৌঁছে যায় প্রশাসনের বুলডোজার। বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে বুধবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে অবৈধ কারখানা ও বেআইনি নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ। নতুুন সরকারের এই কঠোর অবস্থান পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে যে, রাজ্যে আর কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
নবান্নের কড়া নির্দেশ ও প্রশাসনিক তৎপরতা
মঙ্গলবার তিলজলার ওই কারখানায় আগুনের ঘটনার তদন্তে জানা যায়, সেটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এবং অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ছাড়াই চালানো হচ্ছিল। এই ঘটনায় কারখানার মালিক শেখ নাসির ও শামিম মহম্মদকে ইতিপূর্বেই গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী পুর ও নগরোন্নয়ন সচিবকে নির্দেশ দেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে। একইসঙ্গে তিলজলা, কসবা, মোমিনপুর ও একবালপুরের মতো এলাকায় থাকা অবৈধ কারখানাগুলোর ইন্টারনাল অডিট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব কারখানার বিদ্যুৎ ও জলর সংযোগ অবিলম্বে বিচ্ছিন্ন করার কাজও শুরু হয়েছে।
মেয়রের অজুহাত ও আগামীর প্রভাব
তিলজলায় যখন কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে বুলডোজার দিয়ে ভাঙার কাজ চলছে, তখন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বয়ান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। মেয়র দাবি করেছেন, পুর কমিশনারের অফিস থেকে তাঁকে এই অভিযান সংক্রান্ত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। মেয়রের এই অজ্ঞতা প্রশাসনের অভ্যন্তরে সমন্বয়ের অভাব নাকি কৌশলী দূরত্ব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও নবান্ন নিজের অবস্থানে অনড়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তিলজলার অগ্নিকাণ্ড দুর্নীতির যে পাহাড় সামনে এনেছে, তার বিরুদ্ধে সরকারের এই ‘বুলডোজার নীতি’ দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে শহরের ঘিঞ্জি এলাকাগুলোতে গড়ে ওঠা হাজার হাজার অবৈধ কারখানা ও ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ উচ্ছেদে বড় ধরনের প্রশাসনিক চাপ তৈরি হবে। নবান্নের এই সক্রিয়তা আগামী দিনে কলকাতার অন্যান্য প্রান্তেও ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।