জীতুর বিস্ফোরক অভিযোগে উত্তাল টলিউড, মুখ খুলে কড়া বার্তা দিলেন প্রসেনজিৎ

জীতুর বিস্ফোরক অভিযোগে উত্তাল টলিউড, মুখ খুলে কড়া বার্তা দিলেন প্রসেনজিৎ

টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পর থেকেই ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার্স আর্টিস্ট ফোরামকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে সেলেবপাড়ার অন্দরমহল। অভিনেতা জীতু কমলের একের পর এক ফেসবুক পোস্ট ও বিস্ফোরক অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র জলঘোলা। সংশ্লিষ্ট সংগঠনের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে জীতুর তোলা প্রশ্নের প্রেক্ষিতে অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন টলিউডের অভিভাবক তথা ফোরামের কার্যকরী সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

অভিযোগের তির ও বিতর্কের সূত্রপাত

আর্টিস্ট ফোরামের বিরুদ্ধে জীতু কমলের প্রধান অভিযোগ হলো—অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের এক্সিকিউটিভ কমিটিতে স্থান দেওয়া এবং সংগঠনের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা হারানো। জীতু দাবি করেছেন, যোগ্য মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়ে অনেকেই ফোরামে কলকাঠি নাড়ছেন এবং স্টুডিও পাড়ায় রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটছে। ‘এরাও মানুষ’ ছবির শুটিং চলাকালীন তৈরি হওয়া জটিলতা মেটাতে ফোরামের নিষ্ক্রিয়তাও তাঁকে ক্ষুব্ধ করেছে। সোশাল মিডিয়ায় তাঁর এই ‘বিষোদগার’ ইন্ডাস্ট্রির জ্যেষ্ঠ শিল্পীদের একাংশ ভালোভাবে গ্রহণ করেননি।

ফোরামের মর্যাদা রক্ষায় প্রসেনজিতের কড়া অবস্থান

জীতুর এই ধারাবাহিক আক্রমণের জবাবে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন যে, বিগত ২৭ বছর ধরে আর্টিস্ট ফোরাম শিল্পীদের পারিশ্রমিক ও কাজের সময়সীমা নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জীতুর নাম না করে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, কোনো ক্ষোভ বা অভিযোগ থাকলে তা সংগঠনের অভ্যন্তরে জানানো উচিত। প্রসেনজিতের কথায়, “সোশাল মিডিয়ায় লিখেই যদি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেত, তবে ফোরাম ২৭ বছর ধরে টিকে থাকত না।” তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, রঞ্জিত মল্লিকসহ ফোরামের শীর্ষ নেতৃত্ব সবসময় আলোচনার জন্য প্রস্তুত।

সম্ভাব্য প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি

ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের এই সংঘাত কেবল ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সংগঠনের কাঠামোগত বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। জীতুর মতো তরুণ প্রজন্মের অভিনেতাদের এই প্রকাশ্য বিদ্রোহ ফোরামের সংহতি নষ্ট করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের এই হস্তক্ষেপের ফলে সংগঠনের শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা চললেও, শিল্পীদের মধ্যেকার অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ কতখানি প্রশমিত হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের প্রতি জীতুর রাজনৈতিক আবেদন পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *