ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালে ম্যাডোনা ও শাকিরা সাথে থাকছে বিটিএস চমক

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনার পথে পা বাড়িয়েছে ফিফা। আগামী ১১ জুন থেকে আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাওয়া ৪৮ দলের এই বিশ্বযজ্ঞে এবার যোগ হচ্ছে বিনোদনের এক ভিন্ন মাত্রা। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হবে ‘হাফটাইম শো’। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে রাঙাতে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের মঞ্চে একসঙ্গে ঝড় তুলবেন পপসম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা, ল্যাটিন সুপারস্টার শাকিরা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস।
আগামী ১৯ জুলাই বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে বিরতির সময় প্রায় ১১ মিনিটের এই বিশেষ পারফরম্যান্স অনুষ্ঠিত হবে। পুরো আয়োজনের কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড কোল্ডপ্লে-র ক্রিস মার্টিন। ইতিপূর্বে সুপার বোলের মতো ইভেন্টে হাফটাইম শো দেখার চল থাকলেও, ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে এমন উদ্যোগ এবারই প্রথম। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই আয়োজনকে ‘নতুন যুগের সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ফুটবল ও বিনোদনের এক মহাক্ষেত্র
বিশ্বকাপকে কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম বড় বিনোদন মঞ্চ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে ফিফা। ম্যাডোনা, শাকিরা এবং বিটিএসের মতো বিশ্বনন্দিত তারকাদের অন্তর্ভুক্তি সেই পরিকল্পনারই অংশ। এর আগে গত বছরের মার্চ মাসে হাফটাইম শো-র ঘোষণা দিলেও পারফর্মারদের নাম গোপন রেখেছিল ফিফা। অবশেষে আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইনফান্তিনো নিশ্চিত করেন যে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া ইভেন্টের উপযুক্ত এক পরিবেশ তৈরি করতেই এই তারকাখচিত আয়োজন।
সম্ভাব্য প্রভাব ও বির্তক
এই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে প্রবল উৎসাহ দেখা দিলেও তৈরি হয়েছে কিছু বিতর্ক। সাধারণত ফুটবল ম্যাচে বিরতির সময় নির্ধারিত থাকে ১৫ মিনিট। এই দীর্ঘ ও বিশাল আয়োজনের ফলে ম্যাচ বিরতির সময় ঠিক কতটা বাড়বে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক বিশ্লেষক। তাদের মতে, দীর্ঘ বিরতি খেলোয়াড়দের শারীরিক ছন্দ ও মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালের বিরতিতে এমন বর্ণাঢ্য আয়োজন এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।